জুন ২৬, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে ‘পুশ-ইন’ হতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে ‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া বর্ডারে কাউকে এনে পুশ-ইন করিয়ে দেওয়া কোনো যথাযথ বা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া নয়। তিনি আরও বলেন, যদি ভারতের কাছে এমন কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা থাকে যারা সে দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছে, তবে তা কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো উচিত। বাংলাদেশ সরকার সেসব ব্যক্তির জাতীয়তা যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন) করে সত্যতা সাপেক্ষে আইনানুগভাবে তাদের ফিরিয়ে নেবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ১০ হাজার মানুষকে পুশব্যাকের যে কথা বলা হয়েছে, তার কোনো দালিলিক ভিত্তি বা সত্যতা বাংলাদেশের কাছে নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের প্রতিটি সীমান্তে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সীমান্তে এ ধরনের তৎপরতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।
শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী সেখানে তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অসম্পন্ন তদন্ত কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার অপরাধী প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আইনি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) সহকারে আসামিদের ফেরত পাওয়ার আবেদন ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, আসামিদের দ্রুত হস্তান্তর সম্ভব হবে।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের অবস্থান ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফেডারেল পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইলের মাধ্যমে অবহিত করে। ওই বার্তায় ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি পাঠাতে অনুরোধ করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার মাত্র তিন দিনের মধ্যে সব আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথি প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। পরে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস সেই নথি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
বর্তমানে বেনজীর আহমেদ ইউএই ফেডারেল পুলিশের হেফাজতে আছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে এবং শিগগিরই অগ্রগতি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।