জুন ২৫, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: পিএমও
চীনে শিগগিরই বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণে চীনা কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ (বৃহস্পতিবার) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শিগগিরই চীনে আমাদের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয’ খুলতে যাচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য খুবই সহজ। চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা আপনাদের আরও কাছাকাছি থাকতে, আপনাদের সাথে আরও নিয়মিত কথা বলতে এবং আগ্রহ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে আপনাদের সাহায্য করতে চাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বহু দশকের সম্পর্ক আস্থা, শ্রদ্ধা এবং বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্ক কূটনীতি থেকে উন্নয়ন, উন্নয়ন থেকে বাণিজ্য এবং এখন আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এক বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের যাত্রাপথের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি যে, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং আমাদের অন্যতম দীর্ঘদিনের ও বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।
বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কঠোর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, এখন থেকে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে নতুন ব্যবসার লাইসেন্স অনুমোদন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বৈষম্যহীন আচরণ, আমাদের আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী মূলধন ও লভ্যাংশ ফেরত এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা আশা করতে পারেন।
এসময় তিনি জানান, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক জোনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এসব অঞ্চল লজিস্টিকস, বন্দর সংযোগ, সেবা, দক্ষ কর্মী, সরবরাহকারী এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ইকোসিস্টেম সুবিধা প্রদান করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত বস্ত্রশিল্প এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে বিশেষ নীতিগত সুবিধা ও প্রণোদনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ ফেরত নেওয়া এবং আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের আগামী অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।