সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’-এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’-এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে বহুল আলোচিত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ কর্মসূচির ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ (বুধবার) অধিবেশনের নবম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা জানতে চান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে জনগণের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ কর্মসূচির আওতায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সেগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষিক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্য একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা হবে তথ্যনির্ভর, প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত জাতীয় সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

কৃষিখাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি, প্রণোদনা, সেচ সুবিধা ও সহজ শর্তে কৃষিযন্ত্র সরবরাহের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, জলাবদ্ধতা দূর হবে, সেচ সুবিধা বাড়বে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার সুলভ মূল্যে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং বিএডিসির মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি ও প্রিসিশন এগ্রিকালচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি ধান ও গম সংগ্রহ এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষিখাতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

এদিকে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, বিস্তৃত নদ-নদী ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পানি সম্পদ খাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ, বন্যা প্রতিরোধ এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা হ্রাসের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের মাধ্যমে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে গ্রামীণ প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা হবে, যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

Link copied!