মার্চ ১৪, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারি সম্মানি প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বগুড়ার বায়তুল রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের ইমাম হোসাইন আহমেদ আবদুল্লাহর হাতে সম্মানির চেক তুলে দিয়ে তিনি এ কর্মসূচির সূচনা করেন। পরে আইবাস (iBAS) সিস্টেমে বাটন চাপার মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম চালু করা হয়।
এই উদ্যোগের ফলে দেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের পাশাপাশি মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধ বিহারের ধর্মীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় ভাতার আওতায় এলেন।
সরকারের ঘোষিত পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা।
অন্যদিকে মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থের মধ্যে প্রধান দায়িত্বশীল ব্যক্তি—যেমন পুরোহিত, অধ্যক্ষ বা যাজক—পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী দায়িত্বশীল ব্যক্তি—সেবাইত, উপাধ্যক্ষ বা সহকারী পালক—পাবেন ৩ হাজার টাকা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, সম্মানির পাশাপাশি ধর্মীয় কর্মীদের জন্য উৎসব বোনাসও দেওয়া হবে। মসজিদে কর্মরতদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় বছরে দুইবার এক হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে।
এছাড়া দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতাদের দুই হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই সরকারি বা বিদেশি সংস্থার নিয়মিত অনুদান পায়, তারা আপাতত এই সুবিধার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।