ছবি : সংগৃহীত
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন রুটে বাস ও মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদযাত্রা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দূরপাল্লার ২৭টি রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে মোট ৫ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বেশি আদায় করা হয়েছে।
সমিতির দাবি, বাস মালিকদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। শুধু দূরপাল্লার বাস নয়, নগর পরিবহন ও নৌপথের অনেক রুটেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন রুটে ভাড়ার বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা, ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার জায়গায় ১ হাজার টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার বদলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১ হাজার ১০০ টাকার ভাড়া ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের তথ্যও উঠে এসেছে।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষকেরা আরও জানান, কিছু পরিবহনে আসনসংখ্যা কম দেখিয়ে ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও পুরো রুটের ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, ঈদকে ঘিরে বাড়তি যাত্রীচাপ, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম মিলিয়ে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। তাদের দাবি, শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন ও ঈদ বোনাস না থাকায় অনেক চালক ও সহকারীরা বাড়তি ভাড়া আদায়ে চাপের মুখে পড়ছেন।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এবার ঈদ উপলক্ষে ঢাকা থেকে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করছেন। আন্তঃজেলা পর্যায়েও বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীসেবায় কার্যকর নজরদারির অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
তবে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের তদারকি এবং কিছু পরিবহন মালিকের উদ্যোগের কারণে অনিয়ম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে তারা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায়, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করা এবং সড়কে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে ঈদযাত্রা তদারকিতে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছে