ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলায় দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং এলাকায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল।
শনিবার সকালে নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ দুপুর পর্যন্ত চলতে থাকে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে নাটাই–অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কেও, ফলে টানা প্রায় তিন ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের একটি চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। পুকুরপাড়ে অবস্থিত ওই দোকানটি ঘিরে নিয়মিত ভিড় থাকত এবং সেখানে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগও ওঠে। এ নিয়ে দোকান সরানোর দাবি ওঠে, যা পরবর্তীতে দুই পক্ষের বিরোধে রূপ নেয়।
এর পাশাপাশি একই গ্রামের দুটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারের বিরোধও চলছিল। দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি সেই পুরোনো বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করে বলে স্থানীয়রা জানান। সম্প্রতি এক সালিশে দোকানটি সরানোর সিদ্ধান্ত হলেও একটি পক্ষ তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে দুই পক্ষ রামদা, বল্লম ও টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।
সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। পরে দুপুরের দিকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।