এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০১:২২ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি প্রকল্প বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার জনগণকে এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তরে লিখিত জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম গত ১৬ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ১২০৪ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করবে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ১৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও সংস্কার করবে। আমাদের পরিকল্পনা হলো আগামী ৫ বছরে সর্বমোট ২০,০০০ কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখনন করা।
বনায়ন কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের জন্য এরইমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। এসব চারা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে এবং এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার ও এনজিওদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
শিক্ষা খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ফ্রি ওয়াই ফাই’ চালু করা হবে।
ক্রীড়া ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও উন্নয়নে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টার পরিচালনা এবং দেশে পেপালের কার্যক্রম চালুর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ৫০০ জনকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ ইতোমধ্যে ভাতা পেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির আগেই সার্টিফিকেট অব ইলিজিবেলিটি-এর ভিত্তিতে ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এরইমধ্যে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং-এর মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
এছাড়া সরকারি নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোতে শূন্য পদের বিপরীতে ২৮৭৯ জন নিয়োগের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।