আবারও বাজারে ছাড়া হচ্ছে সিলগালা করে রাখা বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

আবারও বাজারে ছাড়া হচ্ছে সিলগালা করে রাখা বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট

ছবি: সংগৃহীত

বাজারে নগদের চাপ সামাল দিতে ভল্টে সিলগালা করে রাখা পুরোনো ডিজাইনের টাকার নোট পুনরায় ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত আগে ছাপানো নোটগুলো ধাপে ধাপে প্রচলনে আনা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, নতুন ডিজাইনের নোট ছাপানোর কাজ চললেও সরবরাহ এখনও চাহিদার তুলনায় কম। ফলে বাজারে নগদের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পুরোনো মজুত নোট ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, এসব নোট কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি। তাই আইনি জটিলতা ছাড়াই সেগুলো আবার বাজারে ছাড়তে কোনো বাধা নেই। বাজারে টাকার চাহিদা মেটাতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

২০২৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও নকশা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হলে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন বিভিন্ন ব্যাংকের ভল্টে থাকা নতুন ছাপা নোটগুলো সংরক্ষণ করা হয় এবং নতুন ডিজাইনের নোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের একটি অংশ। তাদের মতে, ইতোমধ্যে ছাপানো নোট দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে তা আর্থিকভাবে ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সম্প্রতি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুরোনো নোট আবার বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এসব নোট বিতরণ শুরু করেছেন। তাদের মতে, বিশেষ করে উৎসব মৌসুমে নগদের চাহিদা বাড়ায় এ সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত।

এদিকে এবার ঈদে নতুন নোট বিনিময় কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলেও বাজারে নতুন নোটের চাহিদা কমেনি। অনেক জায়গায় বেশি দামে নতুন নোট বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মুদ্রার নকশা পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অর্থনৈতিক প্রভাব ও সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। তাদের মতে, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে পুরোনো নোট পুনরায় চালু করা একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ডিজাইনের নোট ছাপানোর কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাজারে আসবে। ততদিন পর্যন্ত বাজারের চাহিদা মেটাতে পুরোনো নোটই প্রধান ভরসা হয়ে থাকবে।

 

Link copied!