মার্চ ৫, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। তবে ডিম, ছোলাসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি দেখা গেছে বোতলজাত ভোজ্যতেলে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা বাড়ার কারণে ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আমদানি করা নিত্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলেও শঙ্কা রয়েছে। বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, আগারগাঁওসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
রোজা শুরুর আগের দিন ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। তবে সপ্তাহখানেক পর দাম কমে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় নেমে আসে। গত দুই দিন ধরে আবার বাড়তে শুরু করেছে দাম। বুধবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা দরে। পাশাপাশি সোনালি জাতের মুরগির দামও বেড়েছে। এদিন সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে।
তেজকুনিপাড়া এলাকার মুরগি ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, বাজারে এখন নতুন সবজির সরবরাহ কম। ফলে মুরগির চাহিদা বাড়ছে। তার মতে, ঈদের আগে মুরগির দাম কমার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে মুরগির বাজারের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ডিমের বাজারে। গত সপ্তাহের তুলনায় দাম আরও কমে ফার্মের সাদা ডিম প্রতি ডজন ৮৫ থেকে ৯০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দাম কমেছে ছোলারও। চাহিদা কম থাকায় ছোলার কেজি নেমেছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়, যা রোজার শুরুতে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
বাজারে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের সরবরাহ তুলনামূলক কম দেখা গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডিলার পর্যায়ে লিটারে প্রায় তিন টাকা বেড়েছে। তবে ভোক্তা পর্যায়ে এখনও দাম বাড়েনি। পাইকারি দামে বৃদ্ধির কারণে কিছু বাজারে খোলা সয়াবিন তেলে লিটারে দুই থেকে তিন টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আমদানি করা নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
সরবরাহ বাড়ার কারণে বেগুনের দাম কিছুটা কমেছে। রোজার শুরুতে ভালো মানের লম্বা বেগুনের কেজি বিক্রি হয়েছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। বুধবার তা বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। নিম্নমানের বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
লেবুর দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। রোজার আগে মাঝারি আকারের প্রতি হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা বুধবার ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমে এসেছে।
এদিকে পেঁয়াজের দাম আরও কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তবে রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১৩০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।