চট্টগ্রামে অফডক চার্জ বাড়ল, বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে ১০০ কোটি টাকা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

চট্টগ্রামে অফডক চার্জ বাড়ল, বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে ১০০ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা)-এর আওতাধীন চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক বেসরকারি অফডক বা ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোগুলোর হ্যান্ডলিং ও পরিবহন চার্জ সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে চার্জ বৃদ্ধির ফলে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন এই বৃদ্ধির কারণে বছরে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয় ১০০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে রোববার (১৯ এপ্রিল) সরকার দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। এর পরপরই বন্দরকেন্দ্রিক ২১টি বেসরকারি অফডক এই চার্জ বৃদ্ধি কার্যকর করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অফডক থেকে বন্দরে কন্টেইনার পরিবহনে ব্যবহৃত লরি এবং ডিপোর ভেতরে কন্টেইনার ওঠানামার কাজে ব্যবহৃত ক্রেনসহ ভারী যন্ত্রপাতি ডিজেলচালিত। এসব ২১টি অফডকে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়।

চার্জ বৃদ্ধির বিষয়ে বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন বিপ্লব বলেন, ‘ডিপোগুলো প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল পোড়ায় তাদের অপারেশন কর্মকাণ্ডের জন্য। সুতরাং এই বর্ধিত করা ছাড়া ডিপোগুলোর অন্য কোনো উপায় নেই এই কস্টটাকে অ্যাডজাস্ট করার জন্য।’

ব্যবসায়ীরা জানান, গত চার মাসে বন্দর ও স্টিভিডোর একবার করে এবং অফডকগুলো দুইবার চার্জ বাড়িয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফা)-এর সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত কিছু দিন আগে আমাদেরকে বিকডার যে ট্যারিফটা ছিল সেটাও ২০ শতাংশ আমাদেরকে বাড়তি দিতে হয়েছে। রিসেন্টলি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে যেটা সাড়ে ৮ শতাংশ বিকডা আবার নতুন করে রিকভারির জন্য যে সার্কুলারটা দিয়েছে, সেটা আমাদের ট্রেডের ওপর একটা বিরূপ প্রভাব ফেলবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘যার যার মতো ইচ্ছে করে যতটুকু ইচ্ছে ততটুকু বাড়ায় দিবে, এটা আমাদের যারা ইউজার আছে ইউজারের ওপর চাপায় দেয়া, সেটা আসলে আমাদের ব্যবসার জন্য বড় ধরনের একটা ক্ষতির সম্মুখীন।’

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এভাবে বারবার চার্জ বাড়ানো হলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং এর প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়েও। তারা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমানে এসব ২১টি অফডক বছরে ৩ লাখের বেশি আমদানি কন্টেইনার এবং সাড়ে ৭ লাখের বেশি রফতানি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করছে। সমুদ্র বন্দরের মূল এলাকার বাইরে অবস্থিত এসব বিশেষায়িত কন্টেইনার ইয়ার্ডে আমদানিকৃত পণ্য খালাস, লোডিং-আনলোডিং, সংরক্ষণ এবং শুল্কায়নের কাজ সম্পন্ন হয়।

Link copied!