শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজার মামলা বিচারাধীন: শিক্ষামন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ১৪, ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজার মামলা বিচারাধীন: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনি জটিলতার কারণে অনেক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, বর্তমানে শিক্ষা খাতে প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

রোববার (১৪ জুন) সকালে রাজধানীর বনানীতে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার রোধে স্কুল ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিলসহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্যানিটেশন সমস্যার সমাধানেও বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে।’

শিক্ষা বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের সব সময়ের তুলনায় বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে, যা মোট বাজেটের ২ শতাংশ। তবে লার্নিং আউটকাম এখনও সন্তোষজনক নয় বলে তিনি স্বীকার করেন। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া দেশের কোথাও বাল্যবিয়ে বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ধারাকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার ব্যয় কমাতে সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের সব স্কুলে প্রি-প্রাইমারি ক্লাস চালু করা হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ১৮০ দিনের মধ্যেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী বছরের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে মিড-ডে মিল, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা সরবরাহ করা হবে। মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের আস্থার ঘাটতি থাকায় অনেকেই কিন্ডারগার্টেনের দিকে ঝুঁকছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখন থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যয়ের বিপরীতে আউটকাম বিবেচনা করা হবে।’

শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিগত দিনে শিক্ষকদের বদলি নিয়ে একটি বিশাল সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। এখন থেকে প্রাথমিক লেভেলের শিক্ষকদের বদলি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ন্যস্ত করা হবে। আগামী দুই বছর পর প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক ক্লাসরুমে যেতে পারবেন না।’

তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের কারিকুলামে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্কুল ক্যালেন্ডার তৈরি করে দেয়া হবে। সামগ্রিকভাবে কারিকুলাম, শিক্ষক, অবকাঠামো ও প্রশাসন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে সরকার কাজ করছে এবং এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে প্রথমবারের মতো সঠিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Link copied!