জুন ১, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত।
রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে প্রসব-পরবর্তী ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। দুই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও ঘটনাটির বিভিন্ন দিক আরও গভীরভাবে যাচাই করতে সময় নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নবজাতকদের মায়েদের বক্তব্য সংগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে তদন্ত আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হয়।
তিনি বলেন, তদন্তের অগ্রগতি ও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অবহিত করা হয়েছে। তার দেওয়া আইনগত পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন তদন্ত কমিটিকেও তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, কারও দায় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল ফয়সাল সিদ্দিকীকেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দোষী সাব্যস্ত হলে যাতে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে দায় এড়াতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে। প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পরিচালিত বেকারির বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে। কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় সেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।