কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারে উত্তপ্ত দিল্লি

হাসনাত আসিফ কুশল

মার্চ ২৬, ২০২৪, ০৯:৩৫ পিএম

কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারে উত্তপ্ত দিল্লি

ছবি: সংগৃহীত

লোকসভা নির্বাচনের আগেই ভারতের রাজনীতি উত্তপ্ত। আবগারি দুর্নীতির অভিযোগে আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানীতে দফায় দফায় বিক্ষোভ চলছে।

কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তারের পর গুঞ্জন উঠেছিল তিনি কি পদত্যাগ করবেন? কিন্তু পরবর্তীতে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কারাগার থেকেই রাজ্য পরিচালনা করবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বিরোধীরা সেটা মানছে না। তারা কেজরিওয়ালের পদত্যাগের দাবি করছে। এদিকে তার অবর্তমানে দলের হাল ধরেছেন তার স্ত্রী সুনিতা কেজরিওয়াল।

এর আগে কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিল আম আদমি পার্টি। বিক্ষোভ ঠেকাতে প্রস্তুত ছিল পুলিশও। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। গোটা চত্বরে ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি মিটিং-মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।

নির্দেশ অমান্য করে প্যাটেল চক মেট্রো স্টেশনের কাছে আপ কর্মী সমর্থকদের জমায়েত শুরু হতেই বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে পুলিশ মাইকে ঘোষণা করে, ‘এই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। আপনারা এখানে জমায়েত করবেন না। আপনাদের ৫ মিনিট সময় দেওয়া হচ্ছে এলাকা খালি করে দিন।’

তবে পুলিশের নির্দেশকে অগ্রাহ্য করে দলটির আরও কর্মী-সমর্থক এসে জড়ো হয় ওই এলাকায়।

এরপরই বিক্ষোভকারীদের সরাতে মাঠে নামে পুলিশ। শুরু হয় হাতাহাতি। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধের মধ্যেই আটক করা হয় পাঞ্জাবের মন্ত্রী হরজোৎ সিং বাইনসহ আম আদমি পার্টির একাধিক কর্মী-সমর্থককে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মুক্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছেন আম আদমি পার্টির নেত্রী রিনা গুপ্তা। তিনি বলেন, ‘আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ভয় পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে ভোটের প্রচার থেকে দূরে রাখতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

এদিকে কেজরিওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন জেল থেকেই তিনি রাজ্য চালাবেন। দুই দিন আগে জেল থেকেই নিজের প্রথম সরকারি নির্দেশ দিয়েছিলেন কেজরিওয়াল। এবার আবারও ইডি হেফাজত থেকেই নিজের দ্বিতীয় সরকারি নির্দেশ দিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ জানান, বিনামূল্যে ওষুধ ও প্যাথলজি পরীক্ষার দ্বিতীয় নির্দেশ দিয়েছেন কেজরিওয়াল।

সৌরভ বলেন, ‘দিল্লিবাসীর যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্যই ইডি হেফাজতে থেকেও নিজের কাজ চালিয়ে যাবেন কেজরিওয়াল।’

এদিকে কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তার ঘিরে বিতর্ক যখন তুঙ্গে উঠেছে, তখনই তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, শিখস ফর জাস্টিস প্রধান গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের কাছ থেকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ১৩৪ কোটি টাকা নিয়েছেন। এই নিয়ে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে বেশ শোরগোল পড়েছে।

এদিকে পান্নুনের ভিডিওবার্তা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অস্বস্তিতে রয়েছে আম আদমি পার্টি।

কেজরিওয়ালকে বিপদে ফেলে খালিস্তানি জঙ্গি নেতার অভিযোগ, ২০১৪-২০২২ সাল পর্যন্ত খলিস্তানি সংগঠনগুলির থেকে মোট ১৬ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা পেয়েছে আম আদমি পার্টি। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৩৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

পান্নুনের এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে আম আদমি পার্টি। দলটির ভাষ্য, আম আদমি পার্টি দেশবিরোধী কাজ করে না।

জঙ্গি মুক্তির বিনিময়ে শিখ নেতার কাছে টাকা নেওয়ার অভিযোগকে পুঁজি করে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে যাচ্ছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি। সব মিলিয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না।

Link copied!