ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০১:২২ পিএম
সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন-বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠক থেকে ফিরে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্রিফিং করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন-বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠক থেকে ফিরে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলছি না, আমরা আমাদের মতো করে বন্ধুদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকেই দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ।
এরপর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় কামান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি বহর নিয়ে কার্যত মুখোমুখি লড়াই করেছে পাকিস্তানের সেনা এবং আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী।
গতকাল (শুক্রবার) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, দুই দেশ এখন ‘খোলামেলা যুদ্ধে’ লিপ্ত।
এ কিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী কমিটির মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত মুসা কুলাক্লিকায়া এবং সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজির সঙ্গে পৃথক পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ‘শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি’ এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতিমালা—সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ এসবের প্রতি বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।