এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে রুটিন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি শেখ হাসিনাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘ভারতের মাটিতে বসে সে যাতে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতকে বলেছি।’
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, হাসিনা বলতে বাংলাদেশে আর কিছু নাই। সে দেড় হাজার মানুষ হত্যা করে পালিয়ে গেছে ভারতে, এটা আমরা বলেছি। সে একজন সন্ত্রাসী। এবং তার জায়গা বাংলাদেশে আর নাই। সে বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক। তাকে ফেরত আনার ব্যাপারে আইনিভাবে আমরা এগুচ্ছি, আমরা চাব।’
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফর করেছে।
ওই সফরে ভারতীয় ভিসা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মেডিকেল ভিসা এবং ব্যবসায়িক ভিসা খুলে দিতে বলেছি। উনারা (ভারত) এটা পজেটিভলি রিসিভ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সাথে কথা হয়েছে। মিটিংগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আশা করি একটা ইতিবাচক ফল আমরা দেখতে পাব।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর কোথায় হবে—এ প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সার্কভুক্ত দেশগুলোতেও প্রথম সফর হতে পারে। তবে এখনো কিছু ফাইনাল হয়নি, তবে ব্যাপারটি বিবেচনাধীন আছে।’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ দুজনের ভারতে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’
বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটে ভারতের সহযোগিতা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিয়ে তাদের কিছু সহযোগিতা আমরা পেয়েছি পাইপলাইনের মাধ্যেম। এটার জন্য আমরা ধন্যবাদ জানিয়েছি। এবং যেখানে সহযোগিতা লাগবে, আমরা পাব; এটা তারা আশ্বস্ত করেছে।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটার জন্য দুই পক্ষেরই সদিচ্ছা জরুরি। আমরা বলব একটা ভালো শুরু হয়েছে। একদিনে তো আর সব কিছু করা যাবে না। আর কিছু চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই, যেহেতু পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা ওখানে আছে। এর মধ্য দিয়েই আমাদের দেখতে হবে কীভাবে দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে পারব।’