কানাডায় প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফেডারেল এমপি নির্বাচিত হলেন ডলি বেগম

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

কানাডায় প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফেডারেল এমপি নির্বাচিত হলেন ডলি বেগম

ছবি: সিবিসি

কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ডলি বেগম। টরোন্টোর দক্ষিণ-পশ্চিম স্কারবরো আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি এ ইতিহাস গড়েন। তাঁর এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা খলিল রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে এ ঘটনাকে ‘বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনের এক আনন্দের খবর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সকালে কানাডিয়ান মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার দেখে বিষয়টি জেনে তাঁর মন ভরে যায়।

তিনি আরও লেখেন, কানাডায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বহু বাংলাদেশি–কানাডিয়ানকে ফেডারেল রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করলেও এতদিন লিবারেল, কনজারভেটিভ কিংবা এনডিপি—কোনো দল থেকেই কেউ সংসদে নির্বাচিত হতে পারেননি। সে সময় অন্টারিও প্রাদেশিক সংসদে একমাত্র বাংলাদেশি–কানাডিয়ান এমপিপি ছিলেন ডলি বেগম।

ডলি বেগম এর আগে অন্টারিও পার্লামেন্টে এনডিপির এমপিপি ও ডেপুটি নেতা হিসেবে প্রায় আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। খলিল রহমান জানান, বিভিন্ন ফোরাম ও অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ডলি বেগমের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, টরোন্টোর শহীদ মিনার উদ্বোধন, অন্টারিও পার্লামেন্টে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান এবং ঢাকা–টরোন্টো রুটের উদ্বোধনী ফ্লাইট উদযাপনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা একসঙ্গে অংশ নেন। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি ডলি বেগমকে স্নেহভরে ‘আমাদের নিজস্ব বোন’ বলে সম্বোধন করতেন।

খলিল রহমান আরও স্মরণ করেন, অন্টারিও পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে ডলি বেগম এনডিপির উপনেতা হিসেবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, যা তাঁর জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

তিনি তাঁর পোস্টে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে অটোয়ায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের কথাও তুলে ধরেন। সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, যিনি তখন ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার জন্য হাই কমিশনে যান। আলোচনার এক পর্যায়ে কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গ উঠলে কার্নি জানান, কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও কেউ নির্বাচিত হতে পারেননি।

খলিল রহমান বলেন, তখন তিনি ডলি বেগমের কথা উল্লেখ করলে কার্নি তাঁকে সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে আখ্যা দেন, যদিও সে সময় তিনি লিবারেল পার্টির সদস্য ছিলেন না এবং অভিজ্ঞ লিবারেল নেতা বিল ব্লেয়ারের একই আসনের প্রতিনিধি ছিলেন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুতে ডলি বেগম এনডিপি ত্যাগ করে লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন এবং দলীয় মনোনয়ন পেয়ে উপনির্বাচনে অংশ নেন। খলিল রহমানের মতে, তাঁর সঙ্গে অতীতের সেই আলোচনারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ডলি বেগমের নেতৃত্বগুণ ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তিনি ভবিষ্যতে মন্ত্রীসভায় স্থান পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তিনি প্রথম বাংলাদেশি–কানাডিয়ান ফেডারেল মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ভূমিকা রাখবেন।

Link copied!