এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
অপরিশোধিত তেল সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
গতকাল বিকেলে শেষ পরিশোধন কার্যক্রম চলেছিল বলে প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খবর বাংলাট্রিবিউন।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতায় প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনও ক্রুড চালান দেশে আসেনি।
ইরান যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে যাবার কথা থাকা দুই লাখ টন ক্রুডের চালান বাতিল হয়, এর পর থেকে ৫৪ দিন ধরে বাংলাদেশে কোনো ক্রুড ট্যাঙ্কার পৌঁছায়নি।
ইআরএল এর আগে দৈনিক গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড পরিশোধন করত, কিন্তু সংকট দেখা দেওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টনে নামিয়ে আনা হয়।
শেষদিকে পাঁচ হাজার টন তেল কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের (এসপিএম) পাইপলাইন থেকে টেনে এনে এবং ট্যাংকের ডেড স্টক (তলানির অপরিশোধিত তেল) ব্যবহার করে উৎপাদন চালানো হচ্ছিল।
রবিবার বিকেলে ট্যাংকের তলানির ডেড স্টক এক মিটারের নীচে নেমে গেলে আর নিরাপদে ব্যবহার করা যাচ্ছিল না, তাই পরিশোধন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো তাত্ক্ষণিক সংকট হবে না বলে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে।
দেশে প্রায় প্রতি বছর ৬৫–৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়, যার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল ইআরএলে পরিশোধিত হয়। এছাড়া বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইআরএলের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকলেও বর্তমানে দেশে তাৎক্ষণিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই।