ছবি: বিএনপি ফেসবুক পেজ
আগামী ৫ বছরে দেশের ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ ছিল অন্যতম। তার দাবি, কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।
তিনি আরও জানান, যেসব কৃষকের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ ছিল, প্রথম সপ্তাহে তা মওকুফ করা হয়েছে। এ সুবিধা ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ কৃষক পেয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরও ১০টি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, পহেলা বৈশাখ কৃষকদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এ কারণেই এই দিনে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার বাস্তবায়ন করছে।
তারেক রহমান আরও জানান, আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়বে এবং কৃষিতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এখন দেশ গড়ার সময়। নারীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি নির্বাচনের আগে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, শুরুতে মাত্র ২২ হাজার কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছানো হয়েছে। আগামী ৫ বছরে সরাসরি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষিনির্ভর এলাকায় কৃষি সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান। কৃষিপণ্যের জন্য কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
টাঙ্গাইলের আনারসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মৌসুম শেষে অনেক সময় কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পান না। এ সমস্যা সমাধানে প্রতিটি অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি অতীতে সরকার পরিচালনার সময় কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে এবং ভবিষ্যতেও কৃষকদের আস্থা রক্ষা করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি এবং বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শী। এছাড়া কৃষক কবির হোসেন ও কৃষাণী জুলেখা বেগমও বক্তব্য রাখেন।