অস্থায়ী ভেলায় মেয়েকে নিয়ে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর পানিতে নিমজ্জিত সড়ক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। টানা বর্ষণে শনিবার, ২৯ নভেম্বর শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। ছবি: এপি/এরাঙ্গা জয়বর্ধনে
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’র কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত ১৩০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।
দক্ষিণ এশীয় এই দ্বীপদেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকেন্দ্র শনিবার জানায়, দুর্যোগকবলিত হয়ে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, রাতের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো পৌঁছাতে পারেনি।

গত সপ্তাহ থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয় এবং চা বাগান-প্রধান মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলাগুলোতে ভূমিধস শুরু হয়। দুর্যোগের কারণে সরকার স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করে; স্থগিত করা হয় বিভিন্ন পরীক্ষা।
টানা বর্ষণে অনেক জলাশয় ও নদী প্লাবিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। প্লাবনের ফলে কিছু প্রাদেশিক সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের কারণে পাথর, কাদামাটি ও গাছপালা রেললাইনের ওপর পড়ায় সেখানে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
এই সময়ে রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টি হলেও শুক্রবার থেকে উজানের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে নেমে আসা পানির ঢল কলম্বোর আশপাশের এলাকা প্লাবিত করতে শুরু করে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, শ্রীলঙ্কার পূর্ব উপকূলীয় সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া রবিবারের মধ্যে ভারতের দক্ষিণ উপকূলে অগ্রসর হতে পারে। ফলে শনিবার সারা দিন শ্রীলঙ্কায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়টি দেশের উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।