জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

ভোলার বাসিন্দা ও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ গত রোববার (৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দায়ের করেন।

রিটকারীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির জানান, রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট মহাজোট হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে এই মহাজোটকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহাজোটের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ/ইনু), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশনসহ মোট ১৪টি দলও ওই প্রতিবেদনের আওতায় অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ রয়েছে। এ কারণে সংবিধানের ৬৬(২)(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা নির্বাচনে অযোগ্য বলে দাবি করা হয়েছে।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১২ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বলেন, ওই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সহযোগী সংগঠন বলতে ১৪ দল এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বলতে জাতীয় পার্টিকে বোঝানো হয়েছে। ভ্রাতৃপ্রতিম দল হিসেবে জাতীয় পার্টি সব সময় আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের কীভাবে নির্বাচন কমিশন বৈধতা দেয়—সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে রিটে।

এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) অংশ ২৪৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত ২৬ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে এক অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ) ও জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯টি আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। গত ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন।

Link copied!