অক্টোবর ৩, ২০২১, ১০:০১ পিএম
সম্প্রতি একটি বিয়ে বাড়িতে দিনভর ছবি তোলানোর পর এক ফটোগ্রাফারকে বিয়ে বাড়িতে খাবার খেতে না দেওয়া ও বাইরে খেতে যাওয়ার সময়টুকুও না দেওয়ায়, বিয়েতে তোলা সব ছবি ডিলেট করে দিয়েছেন মার্কিন এক ফটোগ্রাফার।
ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে বিধ্বস্ত ওই ফটোগ্রাফারকে মালিকপক্ষ দু’টি অপশন দিয়েছিলেন। তিনি কি খেয়ে, বিশ্রাম নিয়ে সময় নষ্ট করতে চান? না কি একজন পেশাদার হিসেবে নিজের কাজটুকু করে চুক্তি অনুযায়ী টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চান? জবাবে এক মুহূর্তও দেরি না করে ওই ফটোগ্রাফার বিয়ের অনুষ্ঠানে তোলা সব ছবি ডিলিট করে দেন।
পরে যদিও কাজটি করা ঠিক নাকি ভুল হয়েছে তা নিয়ে দোটানায় পরে গেছেন ফটোগ্রাফার নিজেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানতেও চেয়েছেন তার সিদ্ধান্তে ভুল ছিল কি না!
সামাজিকমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ওই ফটোগ্রাফার। লিখেছেন, তিনি পেশাদার ফটোগ্রাফার নন। শখেই ছবি তোলেন। মূলত কুকুর বা পোষ্য জীবজন্তুর ছবি তুলেছেন এত দিন। তবে কিছু দিন আগে হঠাৎই এক বন্ধু তাকে নিজের বিয়ের ছবি তোলার প্রস্তাব দেন। সেখান থেকেই সমস্যার শুরু।
প্রথমে ওই প্রস্তাবে রাজি হতে চাননি ওই ফটোগ্রাফার। এমনকি বন্ধুকে তিনি জানিয়ে দেন, আগে কোনও বিয়ের অনুষ্ঠানে ছবি তোলেননি তাই এ কাজের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তারপরও বন্ধু তাকে জোর করতে থাকেন।
ওই ফটোগ্রাফার আরও জানিয়েছেন, বন্ধুর অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত ছবি তুলতে রাজি হন। সে আমাকে বলে, ছবি নিখুঁত হোক বা নাহোক তাতে তার পরোয়া নেই। তাদের বাজেট ছিল ছোট। এ কারণে আমি ২৫০ ডলারে (২১ হাজার ৪০০ টাকা প্রায়) ছবি তুলে দিতে রাজি হই, যা ১০ ঘণ্টার অনুষ্ঠানের জন্য কিছুই নয়।
বিয়েবাড়িতে হওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ফটোগ্রাফার লিখেছেন, ‘বিয়ের দিন আমি নববধূর পেছন পেছন ঘুরে বেড়িয়েছি। সে অনুষ্ঠানের আগে এখানে-সেখানে যাচ্ছিলো। তার যাওয়া-আসার পথে আমি ছবি তুলছি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বক্তৃতাসহ গোটা অনুষ্ঠানে মানুষজনের ছবি তুলেছি ‘
তিনি আরও বলেন, ‘সকাল ১১টা থেকে কাজ শুরু করেছিলাম। বিকেল ৫টা নাগাদ সবাইকে খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু আমি দেখলাম আমার জন্য কোনও টেবিলে একটি বসার জায়গাও রাখা হয়নি।’
তিনি জানান, ভদ্রতাবশত এর পরও ঘণ্টাখানেক ছবি তোলেন তিনি। তবে দীর্ঘক্ষণ অভুক্ত থাকায় ক্লান্তিতে শারীরিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ‘বন্ধু’র কাছে খাওয়ার জন্য ২০ মিনিটের ছুটি চান তিনি। জবাবে শুনতে হয়, ‘টাকার বিনিময়ে কাজ করছো। হয় পেশাদারের মতো কাজ করে টাকা নিয়ে বাড়ি যাবে। না হলে কাজ ছেড়ে বিশ্রামই নাও।’
সারাদিনের ক্লান্তির পর এর পর আর মাথার ঠিক ছিল না ফটোগ্রাফারের। তিনি বন্ধুর সামনে তৎক্ষণাৎ তার বিয়ের তোলা সবক’টি ছবি ডিলিট করে দেন এবং বাড়ি ফিরে যান। তবে রাগের মাথায় করা কাজ ঠিক হয়েছে কি না, সেটা ভেবে তিনি এখন দোটানায়। নেটমাধ্যমে জানিয়েছেন, তার বন্ধু বিয়ের একটি ছবিও নেটমাধ্যমে দেননি। অনেকে তাদের জিজ্ঞাসাও করছেন ছবির ব্যাপারে। সেসব দেখে এখন অপরাধবোধে ভুগছেন ওই ফটোগ্রাফার।
সূত্র: আনন্দবাজার।