বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুটি আসন থেকেই জয়লাভ করলেও বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন।
আজ (সোমবার) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ার চিঠি পেয়েছি। এখন আসন শূন্য ঘোষণার গেজেট করার কার্যক্রম চলছে।’
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসন থেকে প্রার্থী হতে এবং নির্বাচিত হতে পারেন। তবে সর্বোচ্চ তিনটি আসনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক আসন থেকে নির্বাচিত হলে, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে একটি আসন রাখার সিদ্ধান্ত জানাতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না জানালে নির্বাচন কমিশন একটি আসন রেখে বাকিগুলো শূন্য ঘোষণা করতে পারে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন তারেক রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান পান ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। তিনি ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেন।
অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান পান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।
আরপিও অনুযায়ী, কোনও আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। ফলে বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। একই সঙ্গে শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে, কারণ বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এছাড়া আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনও প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন।