ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার সময় একজন হকারকে টাকা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির পান বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলার পর তাকে এক হাজার টাকার নোট দেন। বিষয়টি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার ভিত্তি হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় পান বিক্রি করা এক বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে শাহরিয়ার কবির কথা বলেন। তিনি বিক্রেতার কাছে জানতে চান, ব্যবসা কেমন চলছে। বিক্রেতা উত্তর দেন, ‘মোটামুটি’। এরপর কেনো ‘মোটামুটি’—জানতে চাইলে বিক্রেতা দেশের পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, চারদিকে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, কখন কী ঘটে তা বোঝা যায় না।
এ সময় শাহরিয়ার কবির ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহই সবকিছুর মালিক। রিজিক ও মানুষের সাক্ষাৎ—সবই তার ইচ্ছায় হয়। কথোপকথন শেষে তিনি বিক্রেতার হাতে এক হাজার টাকার নোট গুঁজে দেন।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় এভাবে টাকা দেওয়া ভোটারকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা থাকতে পারে, যা আইন ও আচরণবিধির পরিপন্থী।
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মানুষের সাহায্য করাটা এখন বিপদ হয়ে গেছে। দোকানে বাচ্চাদের খেলনা কিনে দেওয়া ইস্যু হয়নি, কিন্তু গরিব মানুষটাকে সাহায্য করাটা ইস্যু হয়ে গেল।’ তিনি দাবি করেন, ‘ওই পান বিক্রেতার সঙ্গে তার দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে এবং বিক্রেতা জানিয়েছেন সারাদিন তেমন বিক্রি হয়নি। মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি এক হাজার টাকা দিয়েছেন বলে জানান শাহরিয়ার কবির।’
শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘এ সময় তিনি ওই ব্যক্তির কাছে ভোট চাননি এবং সবকিছুই ক্যামেরার সামনে হয়েছে। একই জায়গায় তিনি শিশুদের খেলনা কেনার জন্যও টাকা দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি নির্বাচনের জন্য নয়।’
তবে আইনগত দিক থেকে বিষয়টি বিতর্কিত। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ভোটারকে ভোট দিতে উৎসাহিত বা বিরত রাখার উদ্দেশ্যে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে টাকা বা অন্য সুবিধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনী আচরণবিধি নির্বাচনী এলাকায় প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা বা অনুদান প্রদান নিষিদ্ধ করেছে।