ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’কে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় বসবাস করবেন—গুলশান নাকি হেয়ার রোডে—তা নির্ভর করবে তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর। এদিকে, মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনও প্রস্তুত করেছে সরকার।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছে, দলীয় প্রধান তারেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানের পর দেশে ফিরে গুলশানে মায়ের বাসা ‘ফিরোজা’র পাশে ১৯৬ নম্বর বাড়িতে ওঠেন তারেক রহমান। আবাসিক এলাকায় সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা এবং গুলশান থেকে সংসদ ভবনের দূরত্ব বিবেচনায় বাসস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও আলোচনা হচ্ছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে বিএনপির দলীয় সূত্র থেকে নিশ্চিত কিছু জানা না গেলেও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘যমুনা’কে প্রস্তুত করা হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন,
যমুনাকে আমরা ঠিক করবো। সব ঠিকই আছে। তবুও যদি প্রধানমন্ত্রীর কিছু চাওয়া থাকে, সেটার ব্যবস্থা করবো।
এর আগে বিগত তিনজন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ‘যমুনা’তে বসবাস করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সংসদ ভবন চত্বরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তবে সংসদ চলাকালে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ডিসেম্বরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবন, মায়ের স্মৃতিবিজড়িত ‘ফিরোজা’ নাকি সরকারি বাসভবনে থাকবেন—এ বিষয়ে খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন,
‘থাকার বিষয়টা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। এখানে আমি কিছু বলতে পারবো না। সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই হবে।’
উল্লেখ্য, হেয়ার রোডে অবস্থিত ‘যমুনা’র পাশেই ২৯ নম্বর ভবন বিরোধী দলীয় নেতার জন্য নির্ধারিত। ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া এ বাসভবনে উঠেছিলেন। ২০০১ সালের পর থেকে কোনো বিরোধী দলীয় নেতা সেখানে ওঠেননি। নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছিলেন, তারা সরকারি গাড়ি-বাড়ি ব্যবহার করবেন না।