নোবেলকে অবশেষে তালাক দিলেন সালসাবিল মাহমুদ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মে ৪, ২০২৩, ০৩:২৮ পিএম

নোবেলকে অবশেষে তালাক দিলেন সালসাবিল মাহমুদ

মাদকের কারণে নোবেলকে তালাক দিতে চলেছেন তার স্ত্রী মেহরুবা সালসাবিল মাহমুদ। সংগীত পাড়ায় বেশ কয়েক মাস ধরে চলা এমন গুঞ্জন অবশেষে সত্য হলো। বারবার নিষেধ করার পরেও মাদক না ছাড়ায় মইনুল আহসান নোবেলকে তালাক দিলেন তার স্ত্রী।

নোবেল ও সালসাবিলের সংসার যে টিকছে না ব্যাপারটি কয়েক মাস আগেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এক ছাদের নিচে নেই তারা। তারপরও নোবেলকে মাদক ছেড়ে তার কাছে ফেরার সুযোগ দিয়েছিলেন সালসাবিল। সেটি না হওয়ায় অবশেষে অফিসিয়ালি ডিভোর্স।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন। এতোদিন তালাক ঝুলিয়ে রাখছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে নোবেলের কাছে মাদক ছাড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে নোবেল মাদক না ছাড়ার কথা বলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তালাক সম্পন্ন করেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সালসাবিল মাহমুদ।

নোবেলের আজকের এই মাদকাসক্ত হওয়ার পেছনে অনেক ক্ষমতাশালী মানুষদের  পরোক্ষভাবে ইন্ধন যুগিয়েছে বলেও তিনি জানান। এই তালিকায় সরকারি প্রশাসনিক উর্ধতন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, ক্ষমতাশালী ব্যাবসায়ী, শো অর্গানাইজার, কণ্ঠশিল্পী জড়িত রয়েছে বলেও তিনি জানান। দরকার হলে তাদের নাম ফাঁসও করতে চান নোবেলের সদ্য সাবেক হওয়া স্ত্রী সালসাবিল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ‘তালাকের চিঠি আগেই দিয়েছিলাম। তালাক কার্যকর হতে তিনমাস সময় লাগে। কিন্তু চাইলে সেটাকে স্থগিত করা যায়। আমি নোবেলের পরিবর্তন আশা করে সেটাকে স্থগিত রেখেছিলাম। আজ সকালে (বৃহস্পতিবার) সেটা কার্যকর করেছি।’

 দ্য রিপোর্ট ডট লাইভের পাঠকদের জন্য ফেসবুকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো।

‘আমি হয়তোবা আগে ক্লিয়ার করিনি ব্যাপারটা যেহেতু আমরা দুজনেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিভোর্স রেজিষ্ট্রেশনটা উকিলকে বলে হোল্ডে রেখেছিলাম, কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পরও যখন আমার ও নোবেলের কথা হয় আমি তাকে শেষবারের মতো মাদকদ্রব্য ছাড়ার কথা এবং চিকিৎসা নেবার জন্য জিজ্ঞেস করি। সে পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দেয় সে কখনো মাদক ছাড়বে না এবং বলে, "নেশা ছাড়লে তো আগেই ছাড়তাম লল" এরপর আমি আমার পারিবারিক সিদ্ধান্তে আমার ডিভোর্স রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করি । ধন্যবাদ

আমার প্রাক্তনকে আমি শুভকামনা জানাই । নোবেল কখনোই এতো অসুস্থ ছিলো না । এমন না যে নোবেলের আজকের এই অবস্থার জন্য ও শুধু একা দায়ী । অবশ্যই সে নিজেই সবচেয়ে বেশি দায়ী কিন্তু তার মাদকদ্রব্য প্রাপ্তি ও আসক্তির ক্ষেত্রে অনেক ক্ষমতাশালী মানুষদের অবদান আছে

সরকারি প্রশাসনিক উর্ধতন কর্মকর্তা , রাজনীতিবিদ, ক্ষমতাশালী ব্যাবসায়ী; (দরকার হলে নাম বলব)

যাদের আগের ক্রিমিনাল রেকর্ড আপনারা নিউজে দেখেছেন অথবা এখনো দেখেননি, কিন্তু নোবেলের আশে পাশে তাদের অবশ্যই দেখেছেন এবং দেখে থাকবেন । (তাদের মধ্যে কিছু শো অরগানাইজারও)

বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য ব্যাবসায় তারা সচল এবং কিছু এয়ার হোস্টেসদের (একজন এয়ারহোস্টেস যে অন্য এয়ারহোস্টেসদের পরিচালনা করে এবং ডিস্ট্রিবিউশন সুবিধার্থে পরিচিত মুখ/ভিক্টিম খুঁজে বের করে) মাধ্যমে এবং অন্যান্য পন্থায় তারা দেশে মাদক আমদানি করে এবং গোপনভাবে ডিস্ট্রিবিউশন করে যার একজন ভিক্টিম নোবেল নিজেই , আসলে শুধু ভিক্টিম বললে ভুল হবে এখন জড়িত ।

মিডিয়ার বিষয় তাই শুধু সামনে এসেছে কিন্তু এসব/এক ক্ষমতাধারী সিন্ডিকেটের ব্যাবসার মুনাফাই আসে বিভিন্ন পরিবারের সন্তানদের ও যুবসমাজকে মাদকাসক্ত করিয়ে।

প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর মেহরুবা সালসাবিল মাহমুদকে বিয়ে করেন মাইনুল আহসান নোবেল। ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি বাংলার ‘সা রে গা মা পা’ শোয়ের মাধ্যমে নোবেল দুই বাংলায় ব্যাপক পরিচিতি পান। তার দরাজ কণ্ঠের গায়কী মুগ্ধ করে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের। কিন্তু সেই মুগ্ধতা ধরে রাখতে পারেননি নোবেল। বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করে এবং উদ্ভট সব কাণ্ড ঘটিয়ে কেবল নিন্দাই কুড়িয়েছেন তিনি। তার বিপক্ষে গেছেন ও কথা বলেছেন অনেকে শিল্পী ও ব্যক্তি। এবার নিজের স্ত্রীও চলে গেলেন তালাক দিয়ে।

Link copied!