যে কারণে পবিত্র কোরআন পাঠ শিখেছিলেন ইয়ামি গৌতম

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

যে কারণে পবিত্র কোরআন পাঠ শিখেছিলেন ইয়ামি গৌতম

ছবি: সংগৃহীত

রূপালি পর্দার চাকচিক্য ও গ্ল্যামারের আড়ালে অনেক সময় থেকে যায় কঠোর পরিশ্রমের গল্প। দর্শকরা মাল্টিপ্লেক্স বা ওটিটির পর্দায় শুধু প্রিয় তারকার নতুন চরিত্রই দেখেন, কিন্তু সেই চরিত্রকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে অভিনয়শিল্পীদের দিতে হয় দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরিশ্রম। এমনই এক উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের নাম।

সম্প্রতি ‘হক’ সিনেমার পরিচালক সুপর্ণ ভার্মা এক সাক্ষাৎকারে জানান, চরিত্রের গভীরে পৌঁছাতে ইয়ামি গৌতম দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন গবেষণায়। বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া আলোচিত চলচ্চিত্র ‘হক’-এর জন্য ইয়ামি দেড় বছর ধরে শরিয়া আইন এবং পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেন।

ইমরান হাশমি ও ইয়ামি গৌতম অভিনীত ‘হক’ সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন আইনজীবীর স্ত্রীকে কেন্দ্র করে, যিনি নিজের অধিকারের জন্য আদালতে দাঁড়িয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। সিনেমায় একজন মুসলিম নারীর জীবনবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসনকে অনুধাবনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। চরিত্রটি পর্দায় যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে ইয়ামি পবিত্র কোরআন সম্পর্কেও অধ্যয়ন করেন বলে জানা যায়।

‘হক’ সিনেমাটি মূলত প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে এবং ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করার পর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরে। এতে ইয়ামি গৌতম ‘শাজিয়া বানো’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেন এবং ওটিটিতেও সিনেমাটি শীর্ষ জনপ্রিয়তা পায়।

পরিচালক সুপর্ণ ভার্মা আরও জানান, ইসলাম সম্পর্কে বর্তমান সময়ে ছড়িয়ে থাকা ভুল তথ্য এড়াতে এবং বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে টিমটি দীর্ঘ গবেষণা করে। সিনেমাটিতে তিন তালাকের মতো বিতর্কিত বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে, যার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে ‘হক’ কেবল একটি আবেগঘন গল্প নয়, বরং যুক্তিনির্ভর একটি সামাজিক বার্তাবাহী চলচ্চিত্র হিসেবে দর্শকমহলে জায়গা করে নিয়েছে।

Link copied!