শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু আইভরি কোস্টের

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ১৫, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু আইভরি কোস্টের

ছবি: সংগৃহীত

ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকলেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয় পরিণতি পায়। দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল, কাঁপিয়েছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ, এমনকি কয়েকবার বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্রসবারও। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালো। নির্ধারিত সময়ের ৯০তম মিনিটে তার করা একমাত্র গোলেই ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আইভরি কোস্ট।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের বড় একটি অংশজুড়ে উপস্থিত ইকুয়েডর সমর্থকদের হলুদ সমুদ্রও বাড়তি আবহ তৈরি করে। দ্বিতীয় মিনিটেই চেলসির মিডফিল্ডার মইসেস কাইসেদো প্রথম শট নিলেও সেটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

শুরুর দিকে আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করলেও গোলের দেখা পায়নি ইকুয়েডর। ১০তম মিনিটে এনার ভ্যালেন্সিয়া সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। হিনকাপিয়ের নিচু ক্রস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি।

২৩তম মিনিটে জন ইয়েবোয়া প্রায় অবিশ্বাস্য এক গোলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার আগবাদুর ভুলে বল দখলে নিয়ে বাঁকানো শটে গোলের চেষ্টা করেন তিনি। তবে তার দারুণ শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

এর সাত মিনিট পর আবারও ভাগ্য সহায় হয়নি ইকুয়েডরের। মইসেস কাইসেদোর দারুণ প্রেসিং থেকে বল পেয়ে অ্যালান মিন্দাকে নিখুঁত পাস দেন ভিতে। মিন্দার প্রথম ছোঁয়ার শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

অন্যদিকে আইভরি কোস্টও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। ১৭তম মিনিটে ফ্র্যাঙ্ক কেসিয়ের পাস থেকে তোরের নেওয়া শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৩৫তম মিনিটে নিকোলাস পেপের জোরালো প্রচেষ্টা জীবন বাজি রেখে ব্লক করেন অ্যালান ফ্রাঙ্কো।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আইভরি কোস্ট। যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে উইলফ্রিড সিঙ্গোর দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

প্রথমার্ধে প্রত্যাশিত গোলের (এক্সপেক্টেড গোলস) হিসাবে এগিয়ে থাকলেও স্কোরবোর্ডে কোনো পার্থক্য গড়তে পারেনি আইভরি কোস্ট।

বিরতির পরও ম্যাচের উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। ৪৬তম মিনিটে এনার ভ্যালেন্সিয়া অসম্ভব কোণ থেকে শট নিয়ে সাইডনেটে বল জড়ান। ৫২তম মিনিটে আবারও ক্রসবারে আঘাত হানে আইভরি কোস্ট। দিয়োমান্দের ক্রস থেকে এলিয়ে ওয়াহির কাছের পোস্টের শট বারে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচে এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো ক্রসবারে আঘাতের ঘটনা।

৬৮তম মিনিটে গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায় ইকুয়েডর। প্লাতার বাঁকানো শক্তিশালী শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা।

সময়ের সঙ্গে ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই নায়ক হয়ে আবির্ভূত হন বদলি হিসেবে নামা আমাদ দিয়ালো।

নির্ধারিত সময়ের ৯০তম মিনিটে ডিফেন্ডার উইলফ্রিড সিঙ্গো নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে আসেন। তার নিখুঁত কাটব্যাক বক্সের প্রান্তে থাকা আমাদ দিয়ালোর কাছে পৌঁছে যায়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকা ঠাণ্ডা মাথায় বাম পায়ের শটে বল জড়িয়ে দেন জালের নিচের বাম কোণে। গোলরক্ষক গালিন্দেজের কিছুই করার ছিল না।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে ইকুয়েডর। যোগ করা সময়ে কর্নার আদায় করে শেষ চেষ্টা চালালেও কসোনুর নেতৃত্বে আইভরি কোস্টের সংগঠিত রক্ষণভাগ সেই চাপ সফলভাবে সামলে নেয়।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে আইভরি কোস্ট শিবির। দীর্ঘ সময় সমতায় থাকা ম্যাচে শেষ মুহূর্তের সেই গোলই গড়ে দেয় পার্থক্য।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল সবচেয়ে বেশি। বিরতির সময় অপটা সুপারকম্পিউটার ড্রয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৩৭.৯ শতাংশ। তবে ফুটবল শেষ পর্যন্ত পরিসংখ্যানের নয়, মুহূর্তের খেলা। আর সেই মুহূর্তটি নিজের করে নিয়ে আইভরি কোস্টকে মূল্যবান তিন পয়েন্ট এনে দেন আমাদ দিয়ালো।

বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতে দারুণ এক জয় পেল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে একের পর এক সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো ইকুয়েডরকে। বিশেষ করে ক্রসবার দুইবার গোলবঞ্চিত করায় হতাশা আরও বাড়িয়েছে লা ত্রির শিবিরে।

Link copied!