জুন ১৭, ২০২৬, ১২:২১ পিএম
ছবি: এপি
আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে নরওয়ে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে প্রথম ম্যাচেই ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।
দলের হয়ে জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক বনে যান ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের অন্য গোলটি করেন লিও স্কিরি অস্টিগার্ড। এছাড়া একটি গোল আসে ইরাকের আয়মান হুসেইনের আত্মঘাতী গোল থেকে। ইরাকের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটিও করেন হুসেইন।
হ্যাটট্রিক মিসের আক্ষেপ থাকলেও হালান্ডের জন্য এটি ছিল স্বপ্নের মতো এক বিশ্বকাপ অভিষেক। ম্যাচের ২৯তম মিনিটেই ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ গোলের দেখা পান তিনি। এই গোলের মাধ্যমে গড়েন একটি অনন্য কীর্তিও। ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ লিগগুলোর মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরেও অভিষেক ম্যাচে গোল করার ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন নরওয়ের এই গোলমেশিন। এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বুন্দেসলিগা ও প্রিমিয়ার লিগে নিজের অভিষেক ম্যাচেও গোল করেছিলেন তিনি।
ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন হালান্ড। তবে এ গোলটিতে ইরাকের ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের বড় ভুল ছিল। ডিফেন্ডারের ব্যাক পাস থেকে গোলরক্ষক জালাল হাসান দ্রুত শট নিতে গেলে বল কাছাকাছি থাকা হালান্ডের পায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।
প্রথমার্ধের ৩৯তম মিনিটে ইরাকের হয়ে ব্যবধান কমান আয়মান হুসেইন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেলেও ইব্রাহিম বায়েস ও আকাম হাশিমের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ইরাক।
বিরতির পর ইরাককে আর ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগ দেয়নি নরওয়ে। ৭৬তম মিনিটে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের নেওয়া দুর্দান্ত এক কর্নার থেকে চমৎকার হেডে ব্যবধান ৩-১ করেন লিও স্কিরি অস্টিগার্ড।
ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন হালান্ড। ইরাকের গোলরক্ষককে একা পেয়েও পরাস্ত করতে পারেননি তিনি। তার শট সরাসরি গোলরক্ষকের পায়ে লেগে প্রতিহত হয়।
তবে ম্যাচের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে (৯৬ মিনিট) ইরাকের আয়মান হুসেইন আত্মঘাতী গোল করলে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় নরওয়ের। এই দাপুটে জয়ে দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়েজিয়ানরা নিজেদের অভিযান শুরু করল স্মরণীয় এক জয় দিয়ে।