‘নারীর জন্য নিরাপদ দেশ দরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেম্বর ২৬, ২০২৩, ০৭:২০ এএম

‘নারীর জন্য নিরাপদ দেশ দরকার’

বাদাবন সংঘ ২০১৬ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত এবং দলিত নারীদের নিয়ে বাগেরহাট জেলায় কাজ করছে। ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ

‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষকাল ২০২৩’ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিরোধে আর্ট ক্যাম্প ও আলোচনা সভার আয়োজন করে বাদাবন সংঘ।

শনিবার (২৫ নভেম্বর) সকাল দশটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই আর্টক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রতিবছর নারী নির্যাতন প্রতিরোধের পক্ষকাল শুরু হয় ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবং ১০ ডিসেম্বর সর্বজনীন মানবাধিকার দিবস পালনের মাধ্যমে শেষ হয় ‘16 days of Activism’।

আর্টক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র গাইন। 

অনুষ্ঠানের এই পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বনশ্রী মিত্র নিয়োগী এবং বাদাবন সংঘের নির্বাহী পরিচালক লিপি রহমান। 

বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, আমরা আমাদের আশেপাশে কিংবা নিজেদের জিজ্ঞাসা করলে আমরা খুঁজে পাব না যে আমরা কোন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছি, কিন্তু আমরা যদি প্রশ্ন করি যে রাতে কোনো নারী স্বাধীনভাবে বের হতে পারি কিনা তাহলে সেটার উত্তর আসবে না। সুতরাং আমরা চাই নারীর জন্য স্বাধীন, মুক্ত এবং নিরাপদ একটা সমাজ তৈরি হোক। সকল প্রকার বৈষম্য দূর করে মানুষ হিসবে নারীর অবস্থান হোক এই পৃথিবীতে।

অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র গাইন বলেন, নারীর জন্য সহিংসতামুক্ত পরিবেশ গড়ার লক্ষ্যে বাদাবন সংঘের এমন উদ্যোগ সফল হোক। 

লিপি রহমান বলেন, প্রতি বছর ১৬ দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের সাথে আছে বাদাবন সংঘ যা নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা মুক্ত সমাজ গড়ায় বদ্ধ পরিকর। আমাদের এই ক্যাম্পেইনটি ১০ ডিসেম্বর  মানবাধিকার দিবস পালনের মাধ্যমে শেষ হবে। 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, ইউএন ওমেনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তপতি সাহা এবং বহ্নিশিখার ফাউন্ডার এবং ম্যানেজিং পার্টনার তাসাফফী হোসেন।

তাসাফফী হোসেন বলেন, সম্পদের মালিকানার ক্ষেত্রে নারী পুরুষের বৈষম্য রয়েছে, নারী মূলত সেভাবে সম্পদের মালিকানা পায়না এবং পেলেও তা নিজের আয়ত্বে রাখতে পারে না। নারীর জন্য সম্পদ নিজের আয়ত্বে রাখতে যেয়ে নানা সহিংসতার শিকার হয়। এছাড়াও নারীর জন্য সামাজিক বা ধর্মীয় নীতিতেও সম্পত্তি বন্টনে রয়েছে বৈষম্য, যে বৈষম্য দূর হওয়া অবশ্য প্রয়োজন। 

তপতি সাহা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের আমাদের এই ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল মূলত তিন নারীর আত্মাহুতি দেবার মাধ্যমে। আমরা নারীর জন্য এই বৈষম্যের অবসান চাই। নারী পুরুষ উভয়েই আর সহিংসতার শিকার না হোক, গড়ে উঠুক সম-অধিকারের পৃথিবী। 

এই আলোচনা সভার সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সবাই একাত্ম হতে হবে এবং নারীর জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে সব নারীকে শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। বিনিয়োগ নারীকে দক্ষ এবং শিক্ষিত তোলার কাজে যাতে হয় সেটা নিশ্চিত করা কারণ নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন নারীর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে আনবে। নারীকে নানাক্ষেত্রে হেয় করা, অযোগ্যভাবার প্রবণতা কমে আসলে নারীর চারপাশের পরিবেশ তার জন্য মুক্ত পরিবেশ হবে।

বাদাবন সংঘ ২০১৬ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত এবং দলিত নারীদের নিয়ে বাগেরহাট জেলায় কাজ করছে। নারীর ভূমি অধিকারসহ সব ধরনের প্রাপ্তি এবং নারীর জন্য সহিংসতামুক্ত পরিবেশ গড়ার লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে থাকে। বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি রয়েছে এগুলো বাস্তবায়ন করার। নারীর জন্য সহিংসতা মুক্ত পরিবেশ গড়ার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের বাদাবন সংঘ একজন সক্রিয় অংশীদার।

Link copied!