এপ্রিল ২, ২০২২, ০১:৪০ পিএম
রাজধানী শাহজাহানপুরে চাঞ্চল্যকর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘পরিকল্পনাকারী’সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী র্যাব জানিয়েছে, মিল্কি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে টিপুকে হত্যা করা হয়েছে। আর হত্যাকাণ্ডটি দেশে সংঘটিত হলেও নিয়ন্ত্রণ করা হয় দুবাই থেকে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ওমর ফারুক (৫২), আবু সালেহ শিকদার (৩৮), নাছির উদ্দিন (৩৮) ও মোরশেদুল আলম (৫১)। তাদেরকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার রাজধানীর র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর ও মিরপুর এলাকা থেকে ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ওমর ফারুক, আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ, মো. নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির এবং মো. মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, নগদ টাকা ও মোবাইলসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
খন্দকার আল মঈন বলেন, মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজের ভর্তি বাণিজ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছিল। এছাড়া এলাকার আধিপত্য বিস্তারসহ মামলা সংক্রান্ত বিষয়েও টিপুর সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের দ্বন্দ্ব ছিল। আর এসব দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই টিপুকে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে রাজধানীর গুলশান শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে মিল্কী হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়। এ ঘটনার সঙ্গে টিপু জড়িত ছিলেন বলে গ্রেপ্তাররা সন্দেহ করতেন। তখন মিল্কী হত্যায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল সেখানে এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন টিপু। কিন্তু বিচারিক কার্যক্রমে তার (টিপু) নাম বাদ পড়ে।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতরা টিপুর অন্যতম সহযোগী রিজভী হাসানকে হত্যা করে। বর্তমানে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। তাদের ধারণা টিপুর কারণেই রিজভী হাসান হত্যাকাণ্ডটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়েছে। মামলার বাদী রিজভীর বাবা আবুল কালামের সাথে গ্রেফতারকৃতরা ৫০ লাখ টাকায় দফারফার চেষ্টা করে। কিন্তু টিপুর কারণে তা হয়নি।
টিপু সবসময় কালামকে নিয়ে চলাচল করতো। তারা একপর্যায়ে কালামকে হত্যার পরিকল্পনা করে, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। কালামের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর তারা টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করে। যাতে মামলা পরিচালনা ধীরগতি করা যায়। তাদের ধারণা ছিলো, কালাম একা মামলাটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে না।
র্যাব জানায়, রিজভী হাসান ওরফে বোচা বাবু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সাক্ষী গ্রেপ্তারকৃত মো. মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশকে তারা অর্থের বিনিময়ে সাক্ষ্য প্রদানে বিরত থাকতে বলে। মোরশেদুল আলম রাজী থাকা সত্বেও টিপুর চাপে সে সাক্ষ্য দেয়। মোরশেদুল পরে তাদের সাথে যুক্ত হয়ে টিপুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশ নেয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোরশেদুল আলম হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য ফারুক ও মুসাকে ফোনে কয়েকজন সন্ত্রাসীদের সাথে যোগাযোগ করায়। হত্যাকান্ডটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সমন্বয়ের জন্য মুসা গত ১২ মার্চ দুবাই যায়। সেখানেই হত্যাকাণ্ড সংঘটনের চূড়ান্ত সমন্বয় করা হয়। হত্যাকাণ্ডটি দেশে সংঘটিত হলেও নিয়ন্ত্রণ করা হয় দুবাই থেকে।