গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার প্রত্যাশায় ঐতিহাসিক ভোটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ইউএনবি

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৮:০৫ এএম

গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার প্রত্যাশায় ঐতিহাসিক ভোটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনের সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে তোলা। ছবি: তাহিয়াত নাজিফা নুর/ইউএনবি।

দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। এখন কেবলই ভোটের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যাশা নিয়ে ১৭ বছর পর অর্থবহ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো জাতি।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।

সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে সনাতন পদ্ধতিতে (ব্যালট পেপার) ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে কমিশন। প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং আরও প্রায় ১০ লাখ নির্বাচনকর্মীর উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্রসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটাররা ২ হাজার ২৮ জনের মধ্য থেকে ২৯৯ জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

ভোটারের হিসাব-নিকাশ

ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

নির্বাচন কমিশনে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল।

ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী আছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে মাত্র ৮১ জন নারী। জামায়াতে ইসলামীসহ প্রায় ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি।

পোস্টাল ভোট

এবার প্রবাসী, সরকারি কর্মচারী এবং ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাবে, সেগুলো গণনা করা হবে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে ১১ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে ৫ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার ১২০টির বেশি দেশ থেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯২ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রবাসী ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৭৬ জন। এসব ভোটের ৯ লাখ ৬৩ হাজার ৩১৮টি ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।

এ ছাড়াও ৬ লাখ ১১ হাজার ৮১৬ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভোটকর্মী ও বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন।

গণভোট

নতুন কয়েকটি বৈশিষ্ট্যে অনন্য এবারের নির্বাচন। দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণভোট।

গতানুগতিক পদ্ধতির পাশাপাশি প্রথমবারের মতো এবার তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর হাইব্রিড ডাক ভোটের প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। এছাড়া ভোটগ্রহণের সময় ৮ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৯ ঘণ্টা করা হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রার্থীর নাম বা প্রতীকসংবলিত ভোটার স্লিপ বিতরণের সুযোগও দেওয়া হয়েছে এবার।

এ ছাড়াও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার) প্রথমবারের মতো রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৬৪ জেলা প্রশাসকসহ মোট রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৬৯ জন।

ব্যবহার করা হচ্ছে ভোট পর্যবেক্ষণে সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা ও ড্রোন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি

এবারের সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন হিসেবে আয়োজন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স থাকবে, কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম টহল দেবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।

তিনি জানান, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

নির্বাচনি পরিবেশ রক্ষায় সারা দেশে ১ লাখ সেনাসদস্য, ৫ হাজার নৌবাহিনী সদস্য, ৩ হাজার ৭৩০ জন বিমানবাহিনী সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ, ৯ হাজার ৩৪৯ জন এসআইএফ (সাবেক র‌্যাব) এবং ৫ লাখ ৭০ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

যান চলাচল

ভোটের দিন যান চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটের দিন মোটরসাইকেল, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি চলাচল বন্ধ থাকবে। মোটরসাইকেল চলাচলে ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।

এছাড়া ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টরা যে যানবাহন ব্যবহার করবেন, তাতে চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন অবস্থান করতে পারবেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনকর্মী

সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনে ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৪৩ হাজার ৭৮ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং অর্ধলক্ষাধিক পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

সরাসরি ভোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে এবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ২৯৯টি পৃথক কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা হবে। সব মিলিয়ে এবার মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৯৫৮টি।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতের মধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপারসহ ভোটের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামাদি। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। একটি সাদা ব্যালট, যেটি হবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। আর গণভোটের জন্য থাকবে গোলাপি ব্যালট।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট নিয়ে ইসির প্রস্তুতির কথা জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষ, যেখানে মার্কিং প্লেস বা ভোটে সিল দেওয়া হয় সেখানে ভোটার ফোন দিতে পারবেন না। ভেতরে ভোটার ছাড়া কেউ যেতে পারবেন না। এমনকি ভোটারও ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এটা একদম পরিষ্কার করে দিলাম। কারণ মোবাইল এখন আমাদের শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।’

তিনি জানান, ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনি কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে, জুলাই মাসে যে নীতিমালা করা হয়েছে সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের জন্য তা অনুযায়ী তারা সবকিছু ব্যবহার করতে পারবেন। নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, একজন সাংবাদিক মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে তো ঢুকতে পারবেনই, এমনকি উনি কক্ষে ঢুকে ভিডিও করতে ও ছবি তুলতে পারবেন। তাকে অনুমতি দেওয়া সময়ের মধ্যে তিনি এসব করতে পারলেও কক্ষের ভেতরে গিয়ে সাক্ষাৎকার নিতে বা সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না।

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটারসহ সবাইকে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ‘অতি প্রতীক্ষিত’ নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ এবং নারী ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তাতে ভোটের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ভোটার তরুণ। এই বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটারকে কেন্দ্রমুখী করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে তরুণদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভোটের ফল

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের পাশাপাশি সারাদেশের রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয়ে পৃথক ফলাফল পরিবেশন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসাররা ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই ফলাফল গণনা করবেন এবং প্রাপ্ত ফলাফল (ফর্ম-১৬ ও গণভোটের ফলাফল) সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন। সেখান থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্যগুলো কেন্দ্রীয় সার্ভারে এবং স্থানীয়ভাবে বড় পর্দায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভিপিএন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার ফলাফল সংগ্রহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বিটিসিএলের বিশেষ ভিপিএন (VPN) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে টেলিটক ও গ্রামীণফোনের উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসাররা মোবাইল অ্যাপ বা নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে ফলাফল সরাসরি আপলোড করবেন, যা একই সঙ্গে সংসদীয় আসনভিত্তিক এবং গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের হার হিসেবে সংরক্ষিত হবে।

দুই ঘণ্টা পরপর তথ্য দেওয়ার বিষয়ে ইসি সূত্রে জানা গেছে, কেবল চূড়ান্ত ফলাফল নয়, কাল ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হারের তথ্যও মিডিয়া সেন্টারে জানানো হবে। ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে তদারকি করা হবে।

জনসাধারণের জন্য ফলাফল দেখার সুযোগ সারাদেশের মানুষ যাতে ঘরে বসেই দ্রুত ফলাফল জানতে পারে, সেজন্য ইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ অ্যাপে লাইভ আপডেট দেওয়া হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে বেসরকারি ফলাফল প্রচারের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, ভোট শেষ হওয়ার পর গণনা সম্পন্ন হলে মধ্যরাত থেকেই সংসদীয় আসনভিত্তিক প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল আসতে শুরু করবে। তবে ভোটগ্রহণের পরদিন সকালেই দেশের বেশিরভাগ আসনের ফলাফল জানা যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

Link copied!