জাল ভোট দিলে যেসব শাস্তি হতে পারে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

জাল ভোট দিলে যেসব শাস্তি হতে পারে

প্রতীকী ছবি

ভোটাধিকার গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। কিন্তু এই অধিকার যদি জালিয়াতির মাধ্যমে বিকৃত হয়, তবে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বাংলাদেশে জাল ভোট একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং আইন অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য।

জাল ভোট কী?
জাল ভোট বলতে বোঝানো হয় এমন ভোট, যা প্রকৃত ভোটার নিজে দেননি। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত—

  • অন্য কেউ ভোটারের নাম ব্যবহার করে ভোট দেওয়া।
  • ভোটার উপস্থিত না থাকলেও ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়া।
  • ভয়ভীতি বা জোর করে কাউকে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা।
  • এক ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দেওয়া।

যেখানে ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছা নেই, সেখানে জাল ভোটের ধারণা প্রযোজ্য।

আইন ও শাস্তি
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৭৩ থেকে ৮৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে বেআইনি কার্যকলাপের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অনধিকার প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা রয়েছে। দায়িত্বশীল নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন।

জাল ভোটের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কাজসমূহ

  • ভোটের অযোগ্য ব্যক্তি ভোট প্রদান করা বা ব্যালট চাওয়া।
  • একই ভোটকেন্দ্রে বা একাধিক কেন্দ্র থেকে একাধিকবার ভোট দেওয়া বা ব্যালট চাওয়া।
  • ভোট চলাকালে ব্যালট সরানো।
  • অন্য কাউকে প্ররোচিত বা সাহায্য করা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত গণভোটে জাল ভোট প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক মামলা, গ্রেফতার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আগামীকাল, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি), দেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

Link copied!