ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে প্রায় ৫৪ বছর ধরে নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার প্রথা এবার ভাঙতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি—ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকছেন কেবল নারী কর্মকর্তারা।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ১৯৭০-এর দশকে জৈনপুরের এক পীরের অনুরোধের পর থেকে ওই ইউনিয়নের অধিকাংশ নারী ভোট দিতে যান না। মাঝে মধ্যে দু-একজন ভোট দিলেও সংখ্যাটা ছিল খুবই কম। অথচ ভোট ছাড়া অন্য সব সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
এই বাস্তবতায় জেলা প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার নারীদের পর্দা রক্ষা নিশ্চিত করে ভোটে অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করার নির্দেশ দেন। তারই অংশ হিসেবে ইউনিয়নের আটটি ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের জন্য ২০টি আলাদা বুথ করা হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, এসব বুথে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নারী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নারী পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে। আটটি কেন্দ্রের জন্য একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেটও দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, “নারীদের পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নজুড়ে প্রচারণা চালিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করছি, এবার নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও নারী বুথগুলোতে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে মোট নারী ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৯ জন। দীর্ঘদিনের অনাগ্রহ কাটিয়ে এবার কতজন নারী ভোটকেন্দ্রে আসেন, সেদিকেই এখন নজর সবার।