ভোটের গাড়ির ‘জনমত বাক্সে’ মানুষের আশা–ক্ষোভ, ৪০ হাজারের বেশি বার্তা পৌঁছেছে প্রধান উপদেষ্টার কাছে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

ভোটের গাড়ির ‘জনমত বাক্সে’ মানুষের আশা–ক্ষোভ, ৪০ হাজারের বেশি বার্তা পৌঁছেছে প্রধান উপদেষ্টার কাছে

ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ

গণভোট ২০২৬ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চালু করা ‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচিতে মানুষের অংশগ্রহণ ও মতামত উঠে এসেছে ভিন্নমাত্রায়। ‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’ শীর্ষক এই সচেতনতামূলক প্রচারণায় রাখা জনমত বাক্সে দেশের নানা প্রান্তের মানুষ নিজেদের আশা, দাবি, ক্ষোভ ও অভিজ্ঞতার কথা লিখে জানিয়েছেন সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–কে।

সরকারি সূত্র জানায়, সারাদেশে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে মোট ৪০ হাজার ২০৬ জন মানুষ কাগজে হাতে লেখা মন্তব্য জমা দিয়েছেন। এসব মন্তব্যে যেমন ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টের কথা উঠে এসেছে, তেমনি রয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, সুষ্ঠু নির্বাচন, বাজার নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রত্যাশা। কিছু মন্তব্যে সরকারের সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণও রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মতামত এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে—১০ হাজার ২১৬টি। এরপর রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩ হাজার ৬০৫টি, চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার ৬টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি এবং সিলেট থেকে ১ হাজার ৬৫১টি মন্তব্য জমা পড়েছে।

ভোটের গাড়ি দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদর ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্থানে গিয়ে প্রচারণা চালায়। সেখানে স্কুলশিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ, চাকরিজীবী, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের কথা লিখে দিয়েছেন।

গাজীপুরের ১০ বছর বয়সী রাফা লিখেছে নিরাপদ পরিবেশে বাঁচার স্বপ্নের কথা। কুমিল্লার দেওয়ান সালাহউদ্দিন দাবি করেছেন সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা। চট্টগ্রামের এক কর্মজীবী ভোটার চাকরির কারণে ভোট দিতে না পারার সমস্যার কথা তুলেছেন। ঠাকুরগাঁও থেকে এসেছে বাজারে সিন্ডিকেট ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি। বরিশাল ও পিরোজপুর থেকে শিক্ষা, ধর্মীয় সহাবস্থান ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তার আহ্বান জানানো হয়েছে। দিনাজপুরের কয়েকজন তরুণী নারী ও শিশু অধিকার এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।

এই সব মন্তব্য পড়ে প্রধান উপদেষ্টা সন্তোষ ও আবেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জনগণের এমন খোলামেলা ও আন্তরিক মতামত রাষ্ট্রের জন্য অমূল্য সম্পদ। তাই কোনো ধরনের বাছাই বা সম্পাদনা ছাড়াই সব প্রশংসা, পরামর্শ, সমালোচনা ও অভিযোগ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই জনমত ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ ও সংস্কার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Link copied!