সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: পিআইডি
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ গুরুত্বারোপ করেন। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও উভয় দেশের কাছে গ্রহণযোগ্যভাবে সমাধান করা গেলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়বে।
অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জবাবে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এ বিষয়ে তার সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ভারতকে বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও জনগণের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান ভারতের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে তার দেশ আগ্রহী।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
হাইকমিশনার দুই দেশ ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর সফল কর্মকাল কামনা করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ইতিবাচক, ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।