সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে দলটির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পৌর শহরের কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে পৌর মঞ্চ চত্বর থেকে উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও র্যালি বের করা হয়। একই সময়ে সিনেমা হল রোড এলাকায় অবস্থান নেন বিএনপির সাবেক কমিটির হাসান মামুনপন্থী নেতা-কর্মীরা।
পুলিশ তাদের উপজেলা পরিষদের ফটকের ভেতরে অবস্থান করালে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বর্তমান কমিটির মিছিলটি সিনেমা হল রোডের দিকে গেলে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা পরস্পরকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।

এরপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পৌর শহরের কালীবাড়ি ও বটতলা এলাকায়। এ সময় কালীবাড়ি রোডের হাবিব রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানো হয়। রেস্তোরাঁটির মালিকের দাবি, ভাঙচুরে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গলাচিপায় দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়। ওই নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির সমর্থনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর উপজেলা বিএনপির পুরোনো কমিটি ভেঙে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তখন থেকেই স্থানীয় বিএনপিতে নুরপন্থী ও মামুনপন্থী হিসেবে পরিচিত দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়নি।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকেই পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।