নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়াল

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়াল

ছবি: এপি

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়েছে। দুর্যোগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জনপদগুলোতে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলগুলো প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আজ (মঙ্গলবার) বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯৮৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩,৯১৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ রোববারের হিসাবে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। দেশটিতে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি।

নেপালের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১১,৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উড়োজাহাজ ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের উচ্চভূমিতে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। একটি হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও গলিত পানি নিচের উপত্যকাগুলোতে নেমে আসে। এতে ভাটির দিকে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়।

স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণকারী বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহের নিচে থাকা ভূশিলার স্তর ভেঙে পড়ার সঙ্গে এই ধসের সম্পর্ক থাকতে পারে। শিলাধসটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূকম্পন হিসেবে রেকর্ড হয়।

এরপর পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢল তিব্বত ও নেপালের উপত্যকাগুলোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোতে গিয়ে পড়ে। এতে নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। বন্যার স্রোতে ঘরবাড়ি, ভবন, সড়ক ও সেতু ভেসে যায়। একই সঙ্গে কাদা ও পাথরের বিশাল স্তূপ স্রোতের সঙ্গে ভাটির দিকে ধেয়ে যায়।

মঙ্গলবারও হাজারো নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। পাশাপাশি সড়কসহ অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে বেঁচে যাওয়া মানুষের কাছে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

উদ্ধারকারীদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এখন ১২টি ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্তত ৯০০ নিখোঁজ কর্মীকে খুঁজে বের করা। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন টানেলের ভেতরে আটকা পড়েছেন।

নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান চলছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া টানেলের ভেতরে আটকে পড়া লোকজনের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।

সেনাবাহিনী প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসাবশেষে ভরা অন্ধকার টানেলের ভেতরে প্রবেশ করছে। তারা কাদা ও পানির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং জীবিত কারও সন্ধানে পাথরের স্তূপ বেয়ে উঠছে।

দুর্যোগ শুরুর পর থেকে উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার চালাচ্ছেন পাইলট বিমল শর্মা। তিব্বতের কাছাকাছি সীমান্তবর্তী শহর তিমুরের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি হতবাক হয়ে গেছেন। বহু বছর ধরে শহরটিকে চেনেন তিনি।

মনে হচ্ছিল, আমি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ভূদৃশ্যের ওপর দিয়ে উড়ছি, বলেন তিনি।

শর্মা জানান, যাদের উদ্ধার করেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলার খুব একটা সুযোগ হয়নি। তবে তাদের মুখের অভিব্যক্তিই বুঝিয়ে দিয়েছে, এই দুর্যোগ তাদের কতটা গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

আমি তাদের চোখে যন্ত্রণা দেখতে পাচ্ছি। এটা হৃদয়বিদারক, বলেন তিনি।

সূত্র: এপি

Link copied!