সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০১:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার ভোরে এসব হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন মেরিন কর্পসের ক্যাম্প টিটিনে তীব্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী বলেছে, ইরান থেকে ছোড়া ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে। আরও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। মার্কিন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
কুয়েতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের হামলার জবাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাহরাইনে বুধবার ভোরে আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেত শুনেছেন এএফপির সাংবাদিকরা।
এর আগে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছিলেন, ওয়াশিংটন তাদের নতুন হামলার জন্য অনুতপ্ত হবে এবং ‘আগ্রাসীদের জন্য কঠোর শাস্তি’ অপেক্ষা করছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে এবং উপসাগরের একটি দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরমান প্রদেশের একটি বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া যায়।
এদিকে এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। তাদের দাবি, মার্কিন হামলায় ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে আঘাত করে। সেখানে তখন বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এতে এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
তবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনো বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাদের ওপর আইআরজিসির হামলার চেষ্টার জবাবেই ইরানে সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর চেষ্টা এবং জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জবাব দিতে হামলা চালানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীর নৌ চলাচলেও। ইরান প্রণালীটি বন্ধ রাখায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গ্রিসভিত্তিক সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস জানিয়েছে, সোমবার রাতে দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত লাগে। এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপই নিক, ইরানও তার সমান জবাব দেবে। তবে ওয়াশিংটন আবার ‘চাপ ও হুমকির নীতি’ গ্রহণ করলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।