মে ৬, ২০২৬, ০২:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
বুধবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যেই খেলাধুলাকে শিক্ষার অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, তরুণ সমাজকে দক্ষ ও কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং, কেয়ারগিভিং, মোবাইল সার্ভিসিংসহ নানা খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আমিনুল হক বলেন, যুব উন্নয়ন ও খেলাধুলা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই দুই খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে পারলে দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের ৬৪টি জেলা স্টেডিয়ামে নতুন করে ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আটটি ভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগিতা চলছে, যেখানে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।
স্টেডিয়াম ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক স্টেডিয়াম মেলার কাজে ব্যবহার হওয়ায় খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে স্টেডিয়ামগুলো অন্য কাজে ব্যবহার না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স সংস্কার এবং আধুনিকায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খেলার মাঠ সংরক্ষণে সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে।
তৃণমূল পর্যায়ে যুবকদের সম্পৃক্ত করতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদেরও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।