মে ৬, ২০২৬, ০১:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনায় মাছ ধরা শুরু হলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না লক্ষ্মীপুরের জেলেদের জালে। ভরা মৌসুমেও নদীতে ইলিশ না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলে, আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীরা। নদীতে নাব্যতা সংকট, ডুবোচর এবং জ্বালানি সংকটকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৫২ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তারা মূলত মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাস জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির কারণে নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ৩০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে জেলেরা আবার নদীতে নামলেও মিলছে না প্রত্যাশিত ইলিশ।
লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা গেছে, অন্য সময়ের মতো জমজমাট পরিবেশ নেই। অনেক ঘাটেই অলস সময় পার করছেন আড়তদার ও শ্রমিকরা। জেলেদের বেশিরভাগই নদী থেকে প্রায় খালি হাতে ফিরছেন। যা মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে নৌকার তেল খরচও উঠছে না বলে অভিযোগ তাদের।
জেলেরা বলছেন, দিন-রাত নদীতে জাল ফেলেও আশানুরূপ মাছ মিলছে না। এর মধ্যে আবার জ্বালানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অনেকে তেলের অভাবে নদীতেই যেতে পারছেন না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।
এদিকে বাজারেও ইলিশের সরবরাহ কম। সামান্য যে পরিমাণ মাছ উঠছে, তার দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। মজু চৌধুরীর হাটে মাছ কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় দুই হাজার টাকা। দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই মাছ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, নদীতে ডুবোচর ও নাব্যতা সংকটের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ইলিশের বড় অংশ এখন গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছে। তবে বৃষ্টি ও নদীতে পানির প্রবাহ বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৮ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।