শরীয়তপুরে শিশু নিবিড় হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসি ও একজনের ২১ বছরের আটকাদেশ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

শরীয়তপুরে শিশু নিবিড় হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসি ও একজনের ২১ বছরের আটকাদেশ

শরীয়তপুরে আলোচিত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হৃদয় খান নিবিড়কে হত্যার দায়ে দুজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় একজনকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শাকিল হোসেন গাজী (১৯) ও সিয়াম হোসেন (২০)। এছাড়া খিলগাঁও এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর আসামিকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট বিকেলে খেলাধুলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের খিলগাঁও এলাকার প্রবাসী মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে হৃদয় খান নিবিড়। ওইদিন সন্ধ্যায় নিবিড়ের মা নিপা আক্তারের ফোনে কল করে অপহরণকারীরা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শাকিল হোসেন গাজী, পাবনার সিংঙ্গা এলাকার সিয়াম হোসেন এবং ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন সকালে বাড়ির অদূরে একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় নিবিড়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের দাদা মমিন আলী খান বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। পরে আসামিরা শরীয়তপুর চিফ জুডিসিয়াল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলাটি প্রথমে পালং মডেল থানার একজন কর্মকর্তা তদন্ত করেন। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ দুই বছর পাঁচ মাস পর ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর আসামিদের এজলাস থেকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হামলার চেষ্টা চালায়। তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত শিশু নিবিড়ের বাবা মনির হোসেন খান বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন প্রবাসী ছিলাম। হত্যাকারীরা আমার ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দেওয়ার আগে তারা আমার ছেলেকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ দুই বছর ৫ মাস পর আমার ছেলের হত্যার রায় হয়েছে। দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আমরা খুশি। অতিদ্রুত যেন এই রায় কার্যকর করা হয়।’

নিহতের মা নিপা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ফুলের মতো শিশু ছিল। ওকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে আমি কখনো মানতে পারিনি। আমার ছেলেকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, অপরাধীদের যেন সেভাবে দ্রুত ফাঁসি দেওয়া হয়।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান রোকন বলেন, ‘আমার মক্কেল সঠিক রায় পেয়েছেন। তবে যাকে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাপারে বাদীপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

Link copied!