এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ | ফাইল ছবি/সংগৃহীত
ইউরোপজুড়ে যখন অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হচ্ছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে স্পেন। দেশটির সরকার প্রায় ৫ লাখ নথিবিহীন অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। সরকার বলছে, অর্থনৈতিক চাহিদা, জনসংখ্যাগত চাপ এবং শ্রমঘাটতির বাস্তবতা বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার এই কর্মসূচি অনুমোদন করে।
জানা যায়, এই পরিকল্পনার আওতায় আবেদনকারীদের এক বছরের নবায়নযোগ্য বসবাস ও কাজের অনুমতি দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী ব্যবস্থায় রূপ নিতে পারে। সরকারের হিসাবে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং পরিচ্ছন্ন অপরাধমুক্ত রেকর্ড দেখাতে হবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা চলবে জুনের শেষ পর্যন্ত। অনুমোদন পেলে অভিবাসীরা বৈধভাবে কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন।
সরকারের মতে, এসব অভিবাসী ইতোমধ্যে স্পেনের অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে কৃষি, পর্যটন ও সেবাখাতে তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য। জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলা এবং শ্রমবাজারে ঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে মাদ্রিদ।
তবে বিরোধী দল পিপলস পার্টি এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে পারে। অন্যদিকে ক্যাথলিক চার্চসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
ইউরোপে ক্রমবর্ধমান কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যে স্পেনের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটিকে মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
এদিকে বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। আলজাজিরায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরি করায় তারা প্রধানমন্ত্রী সানচেজকে ধন্যবাদ জানান।
একজন বাংলাদেশি অভিবাসী বলেন, এখানে কাজ নেই, থাকার ঘর নেই। এখানে জীবনযাপন খুবই কঠিন। তাই এখন বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর খবরে সবাই খুবই খুশি।