এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১০:৩১ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধে তিনি এই পদক্ষেপে সম্মত হয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা কোনো একটি চূড়ান্ত পরিণতিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত’ যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।
এর আগে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের একাধিক হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। আন্তোনিও গুতেরেসসহ অনেকেই বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে এ ধরনের হামলা নিষিদ্ধ।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইরান, ইসরায়েল বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে কি না, তাও এখনও পরিষ্কার নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-এর বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরান সরকার গুরুতরভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে (যা মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়), এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে আমরা ইরান দেশটির ওপর হামলা স্থগিত রাখতে বলেছি যতক্ষণ না তাদের নেতা ও প্রতিনিধিরা একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারেন।’
‘তাই আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখতে ও অন্য সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকার ও সক্ষমতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছি আর তাদের প্রস্তাব জমা দেওয়া ও আলোচনা কোনো না কোনোভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বাড়িয়েছি।’
তিনি আরও জানান, সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্য বন্ধ রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে ইরান এ অবরোধকে ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে।
এদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যেখানে মার্কিন অবরোধ একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলার জন্য ‘উন্মুখ হয়ে আছে’।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি ‘দারুণ চুক্তি’ হতে যাচ্ছে।
তবে বুধবার ভোর পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে এ ঘোষণার কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অনুরোধ করেনি এবং প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌ অবরোধ শক্তি প্রয়োগ করে ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ বাকের কলিবফ ট্রাম্পের ঘোষণাকে তেমন কোনো ‘গুরুত্ব নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং এটিকে একটি ‘কৌশল হতে পারে’ বলেও উল্লেখ করেছেন।