জুন ২৭, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার পরিচালিত এ হামলার কথা নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। সেই ঘটনার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করেছে ওয়াশিংটন
সেন্টকমের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী সিরিকের তাহেরুয়েহ জেটি এলাকায় শুক্রবার গভীর রাতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই ওই বিস্ফোরণ ঘটে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে এটিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির `বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন` বলে মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময় এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যে সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালী ব্যবহার না করে। তবে ওই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই বেশ কয়েকটি জাহাজ বিকল্প পথ দিয়ে চলাচল করছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রণালী অতিক্রম করা ৪২টি জাহাজের প্রায় অর্ধেকই ওমান উপকূলসংলগ্ন একটি অনুমোদনহীন দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট ব্যবহার করেছে।
এদিকে জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার কারণে আটকে পড়া ১১৫টি জাহাজ এবং প্রায় আড়াই হাজার নাবিককে উদ্ধারের অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা আপাতত কমেছে।