জুন ১, ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দুই দেশের মধ্যে তৃতীয় দফা উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা। সপ্তাহান্তে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘ইরানের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাবে তারা ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছিল ইরান।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে হামলা চালাতে ব্যবহৃত একটি মার্কিন ঘাঁটিকে তারা লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে ঘাঁটিটির অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কয়েক মাস ধরে চলমান দুই দেশের সংঘাত নিরসনে সপ্তাহান্তের আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ার পর নতুন করে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তির শর্তে কিছু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিবিসির মার্কিন সংবাদ অংশীদার সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীর নৌপথ পুনরায় চালু করা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের বিষয়টি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস কোনো সাড়া দেয়নি।
ইরানের প্রধান আলোচক রোববার (৩১ মে) বলেন, ইরানিদের অধিকার সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, শনিবার ও রোববার তারা ইরানের গোরুক এলাকা এবং কেশম দ্বীপে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ও রাডার স্থাপনায় ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং দুটি ড্রোনে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব ড্রোন আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য ‘স্পষ্ট হুমকি’ তৈরি করছিল। এছাড়া হামলায় কোনো মার্কিন সেনা সদস্য আহত হননি বলেও জানানো হয়।
অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা সেই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সিরি দ্বীপে অবস্থিত তাদের যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছিল। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত দ্বীপটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৪০ মাইল বা ৬৫ কিলোমিটার দূরে।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ পুনরাবৃত্তি হলে তাদের প্রতিক্রিয়া হবে ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন’। আইআরজিসির এ বক্তব্য প্রকাশ করেছে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি।
এদিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী সোমবার (১ জুন) জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘শত্রুতাপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ প্রতিহত করছে। তবে এসব হামলার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে চালানো মার্কিন বিমান হামলার জবাবে গত সপ্তাহে কুয়েতের একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল তেহরান। ইরানের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতা এবং নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলা পরিচালনা করেছিল।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি স্থায়ী সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং আলোচনা এগোচ্ছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
গত শুক্রবার ট্রাম্প ও তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার একটি কাঠামো নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে বৈঠকে বসেন। তবে বৈঠক থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। পরে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, চুক্তির খসড়ায় পরিবর্তন চেয়েছেন ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি