ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে কড়া অবস্থান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । তিনি বলেছেন, ইরান যদি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করে, তবে এই যুদ্ধ থামবে না। একই সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় দ্রুত বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, লেবানন ও ইরানের বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলের হামলা জোরদারের মধ্যেই তেহরানেও বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্রের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে মাত্র এক সপ্তাহেই তিন হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
এই সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো অঞ্চলের বাইরেও প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমনকি তুলনামূলক শান্ত বলে পরিচিত উপসাগরীয় অঞ্চলও এখন উত্তেজনার মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, এখনই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। তা না হলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও উত্তেজনা কমানোর ওপর ওই আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনা বা চুক্তির প্রশ্নই নেই। তাঁর ভাষায়, তেহরানকে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তখনই এই অভিযান থামাবে, যখন নিশ্চিত হবে যে ইরান আর মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকি নয়। তিনি দাবি করেন, তখন ইরান কার্যত আত্মসমর্পণের পরিস্থিতিতে পৌঁছে যাবে।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পরিবর্তে যদি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এদিকে সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট নর্থ সি অপরিশোধিত তেলের দাম একদিনেই প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের কারণে সাপ্তাহিক হিসাবে তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।