ছবি: সংগৃহীত
সাবেক জাতীয় সংসদ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকের পর তাকে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার সকালে সমকালকে তিনি জানান, সাবেক স্পিকার বর্তমানে ডিবি হেফাজতেই আছেন।
তিনি বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে কী কী মামলা রয়েছে সেই তথ্য সংগ্রহ করছি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’
জানা গেছে, রংপুরে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। রংপুর মহানগর কোতোয়ালি আমলি আদালতে মামলাটি করেন নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার (৩২)। রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। পরে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ সেপ্টেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন, যখন সাবেক স্পিকার আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর টানা চারবার এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। এর আগে ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ, এবং ১০ জানুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
শিক্ষাজীবনে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯০ সালে এলএলএম ডিগ্রিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের এসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০০ সালে ‘দ্য রাইট টু লাইফ’ বিষয়ের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে জনস্বার্থ, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক বিভিন্ন মামলা পরিচালনা করেছেন এবং ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনা-র বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্যানেল আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।