যেসব জুটির ভালোবাসা এখনো জীবন্ত

ফারহানা জিয়াসমিন

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৪, ১০:৫৩ এএম

যেসব জুটির ভালোবাসা এখনো জীবন্ত

ছবি: সংগৃহীত/প্রতীকী

পৃথিবীতে অমরত্ব পাওয়া অসম্ভব হলেও যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে অমর হয়ে থাকা অসম্ভব কিছু নয়। ভালোবেসে মানুষের মনে অমর হয়ে আছেন এমনই কিছু মানুষ। যারা পৃথিবীতে ভালোবাসার দৃষ্টান্ত সাজিয়ে রেখে গেছেন, যাদের গল্প প্রেমিক-প্রেমিকাদের জোগায় অনুপ্রেরণা। এসব ভালোবাসার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে কত নাটক-সিনেমা-গানও।

লায়লা-মজনু

আরব্য যুগের গল্পের চরিত্র লায়লা-মজনু। বাল্যকালে প্রেম হয় লায়লা-কায়েসের। এই প্রেম যখন সমাজের নজরে এলো তখন দুজনের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। নিঃসঙ্গ কায়েসকে মরুপ্রান্তরে নির্বাসনে দেয়া হয়। বিরহকাতর কায়েসের ক্ষ্যাপাটে আচরণের জন্য তাকে মজনুন বা (পাগল) বলে ডাকতে শুরু করে মানুষ। সেই থেকে মজনু নামের সৃষ্টি।

কাহিনীতে এমনও বলা হয়, লায়লার পিতা মজনুকে আহত করলে লায়লাও আহত হতো, এমনই ছিল তাঁদের প্রেম। লায়লাকে তাঁর পিতা জোর করে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়। স্বামী মারা গেলে লায়লা মজনুর কাছে ফিরে এলেও প্রচণ্ড দুঃখ আর অনাহারে মজনুর মৃত্যু হয়। লায়লাও তাঁর ভালোবাসার মানুষ মজনুর পথ অনুসরণ করে। মৃত্যুর পর তাদের পাশাপাশি সমাধিস্থ করা হয়।

রোমিও-জুলিয়েট 

বিশ্ববিখ্যাত লেখক উইলিয়াম শেক্সপিয়রের সৃষ্টি কালজয়ী চরিত্র রোমিও-জুলিয়েট। যুগযুগ ধরে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এই বিয়োগান্তক প্রেম কাহিনী। দুই শত্রু পরিবারের সন্তান রোমিও আর জুলিয়েট। পারিবারিক শত্রুতা-রেষারেষি সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে তারা প্রেমে পড়েন প্রথম দেখায়। শত বাধা উপেক্ষা করে বিয়েও করে নেন। কিন্তু শেষে জয় হয় দুই পরিবারের শত্রুতারই। ভুলবোঝাবুঝি থেকে বিষপানে আত্মহত্যা করেন রোমিও-জুলিয়েট। এই প্রেমের ট্র্যাজেডি এখনো কাঁদায় বিশ্বব্যাপী মানুষকে।

সেলিম-আনারকলি

মুঘল সম্রাট আকবরের পুত্র সেলিম প্রথম দর্শনেই রাজ্যের নর্তকী অনিন্দ্য সুন্দরী আনারকলির প্রেমে পড়েন। কিন্তু এই সম্পর্ক কখনোই মেনে নেননি সম্রাট আকবর। আনারকলিকে সেলিমের চোখে খারাপ প্রমাণ করতে নানা ধরনের চক্রান্ত করেন তিনি। পিতার এ কৌশলের কথা জানামাত্র সেলিম নিজ পিতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। যুদ্ধে হেরে যান সেলিম। পরাজিত সন্তানের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন আকবর। তখন নিজের জীবনের বিনিময়ে সেলিমের জীবন ভিক্ষা চান আনারকলি। সেলিমের চোখের সামনে তার প্রিয়তমা আনারকলিকে জ্যান্ত কবর দেয়া হয়।

মার্ক অ্যান্টনি-ক্লিওপেট্রা

ক্লিওপেট্রা ও মার্ক অ্যান্টনির আলোচিত প্রেমকাহিনী নিয়ে নাটক লিখেছিলেন শেক্সপিয়র। অনিন্দ্য সুন্দরী মিশরীয় রাণী ক্লিওপেট্রা আর তাঁর প্রধান সেনাপতি অ্যান্টনি। প্রথম দেখায়ই প্রেম হয়ে তাদের। তাদের এই প্রেমের বন্ধনে মিসর পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। রাজকীয় ঘাত-প্রতিঘাত, জয়-পরাজয় উপেক্ষা করে বিয়ে করেন তাঁরা। রোমানদের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় অ্যান্টনির মনোবল ভাঙতে যুদ্ধের ময়দানে তাঁকে জানানো হয় যে শত্রুরা ক্লিওপেট্রাকে হত্যা করেছে। এ সংবাদ পেয়ে অ্যান্টনি নিজ তলোয়ার দিয়ে আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে এ খবর পেয়ে রাণী ক্লিওপেট্রাও নিজ ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করেন।

রানী ভিক্টোরিয়া এবং প্রিন্স অ্যালবার্ট

হাজার বছরের পুরানো ইংরেজ সিংহাসনের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে হাজারো প্রেম কাহিনীও। তবে এর মধ্যে কুইন ভিক্টোরিয়া আর প্রিন্স আলবার্টের প্রেম কাহিনী অতুলনীয়। কুইন ভিক্টোরিয়া তাঁর স্বামী প্রিন্স আলবার্টের মৃত্যুর পর প্রায় ৪০ বছর পর্যন্ত তাঁর জন্য শোক করেছেন। ১৮৬১ সালে স্বামী আলবার্টের মৃত্যুর পর স্বামী শোকে মুহ্যমান রানী পরের তিনটি বছর একবারের জন্যও লোকসমক্ষে আসেননি। তার এই বিরহ শোক জনতার সমালোচনার মুখে পড়ে। জীবননাশের হামলাও হয় ভিক্টোরিয়ার ওপর। ১৮৬৬ সালে রানী পুনরায় কাজ শুরু করেন এবং পার্লামেন্টে যোগ দেন। ১৯০১ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া শোকের কালো পোশাক পরিধান করতেন। তার শাসনামলেই ব্রিটেন সুপার পাওয়ারে পরিণত হয়।

শেষ কথা: ভালবাসার এসব নিদর্শন আজও মানুষের মুখে মুখে আলোচিত। এইসব বাস্তব ও গল্প গাঁথায় এখনও মানুষের মাঝে প্রেম প্রবাহিত হতে দেখা যায়।

 

Link copied!