সাকিবের বিরুদ্ধে ১ কোটিরও বেশি পাওনার অভিযোগ কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের

স্পোর্টস ডেস্ক

আগস্ট ৭, ২০২৪, ১২:৫২ পিএম

সাকিবের বিরুদ্ধে ১ কোটিরও বেশি পাওনার অভিযোগ কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের

সাকিব আল হাসান

সাতক্ষীরা উপকূলে দাতিনাখালী এলাকায় সড়কের ধারে ২০১৬ সালে সাকিব আল হাসান এগ্রো ফার্ম নামে একটি কাঁকড়া খামার গড়ে তোলেন ক্রিকেট অঙ্গনে অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত সাকিব আল হাসান। এ জন্য স্থানীয় ১০-১২ জন জমির মালিকের কাছে ৪৮ বিঘা জমি ইজারাও নিয়েছিলেন তিনি।

এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, কাঁকড়া হ্যাচারিতে সফট সেল কাঁকড়া নিলেও আজও টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। তার কাছে কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন একজন পাওনাদার।

মুন্সীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের পাশের বাসিন্দা জুলফিকার আলী সফট সেল কাঁকড়া দিতেন সাকিবের হ্যাচারিতে। পাওনার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা কাকড়া দিয়ে মাস শেষে টাকা নিতাম। হিসাব রাখতো সাকিবের খামারের দায়িত্বরত ম্যানেজার। এভাবে চলতে চলতে আমার প্রায় তিন মাসের টাকা দেয়নি। আমি এখনো ৫-৬ লাখ টাকা পাবো।”

সাকিব, তার বন্ধু পাভেল, ইমদাদ ও আরেকজনসহ মোট চারজন মিলে খামারটি গড়ে তোলেন। বিষয়টি উল্লেখ করে সাকিব আল হাসানের ওই পাওনাদার বলেন, “প্রকৃত অর্থে আমরা সাকিবকে দেখেই তাদের সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছিলাম। মেমোতেও সাকিবের নামই ছিল।”

জুলফিকার আলী বলেন, “২০২১ সালে খামারটি বন্ধের পরে নানাভাবে আমরা চেষ্টা করেছি টাকা আদায় করতে। তবে কোনভাবেই আদায় করতে পারিনি। বছরখানেক আগে মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়িতে গেছিলাম তার বাবার কাছে। আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। তারপর থেকে বিষয়টি সেভাবেই রয়েছে। টাকা পাবো তার মেমো বা প্রমাণপত্র এখনও রয়েছে।”

একই সঙ্গে সাকিবের কাছে পাওনা ৩০ লাখ টাকার শোকে বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের ভামিয়া গ্রামের গুরু দাসের মৃত্যুর অভিযোগও করেছেন জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, “গুরু দাস হার্ড কাকড়া দিতেন সাকিবের খামারে। ৩০ লাখ টাকা বাকি পড়ে তার। গুরু দাস, আমিসহ ৪-৫ জন সাকিবের বাড়িতে গেছিলাম। বাড়ি থেকে সাকিবের বাবা খারাপ ব্যবহার করে বের করে দেওয়ার পর মন খারাপ করে আমরা ফিরে আসি।”

তিনি আরও বলেন, “গুরুদাসের ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না। অন্যরা তার কাছে টাকা পাবে। এদিকে সাকিবের কাছে পাওনা টাকাও পাচ্ছিলো না। এসব নিয়ে চিন্তায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুদাসের মৃত্যু হয়। আমরা ১৩-১৪ জন এখনো সব মিলিয়ে কোটি টাকারও বেশী পাবো ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের কাছে। আমরা আমাদের পাওনা টাকা ফেরত চাই।”

বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হায়দার আলী সাকিবের কাছে পাওনার বিষয়ে বলেন, “আমি সফট সেল কাকড়া দেওয়ার ৫০ হাজার টাকা আজও পাবো। আমার টাকা একটু কম হলেও অন্য পাওনাদাররা মোটা অংকের টাকা পাবেন।”

করোনাকালীন সময়ে সাকিবের কাঁকড়া হ্যাচারি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জমির মালিকদের বছরে চুক্তির টাকা দিতেও গড়িমসি করতে থাকেন তারা। তখন মানব বন্ধনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন তারা। এসব নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জমির মালিকরা টাকা পান।

জমির মালিকদের অন্যতম দাতিনাখালি গ্রামের মোরালী কয়াল বলেন, “টাকা পেতে অনেক ঝমেলা হয়। আগে টাকা নিতে গিয়ে আন্দোলন করতে হয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত চুক্তিপত্রের মেয়াদ রয়েছে। এরপর আমরা আর কেউ জমি লিজ দিবো না। আমরা জমির মালিক রয়েছি ১০-১২ জন।”

মোরালী কয়াল অভিযোগ করে বলেন, “অবৈধভাবে আমাদের জমির উপর বিল্ডিং নির্মাণ করেছে। চুক্তিপত্রে সেটি উল্লেখ ছিল না। এখন সেখানে কেউ থাকে না। খামার বন্ধ হওয়ার পর থেকে তাদের এখানে দেখাও যায় না। সেভাবে পড়ে রয়েছে।”

এদিকে পাওনার বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) মুঠোফোনে সাকিব আল হাসান জানান,  সরকারি প্রণোদনার অর্থ এলেই জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

Link copied!