দেশব্যাপী করোনায় মৃত্যু প্রায় আঠারো হাজার ছুঁই ছুঁই। এখন চলছে করোনাভাইরাইসের ‘তৃতীয় ঢেউ।’ দৈনিক মৃত্যু মিছিলে যুক্ত হচ্ছে দুই শতাধিক মানুষ। এমন এক ভয়ানক অবস্থায় রাজধানী ছেড়ে ভ্রমণে গিয়েছে ১৭ লাখ সিম ব্যবহারকারী! সিম ব্যবহারকারীদের ঢাকা ছাড়ার এমন তথ্য জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। রবিবার রাতে তিনি ফেসবুকে এ বিষয়ক তথ্য দিয়ে একটি ছবি শেয়ার করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, গত ১৫ ও ১৬ জুলাই দুদিনে ঢাকা ছেড়েছে ১৬ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮৭ সিম।
এর মধ্যে গ্রামীণফোনের সিম ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৪, বাংলালিংকের ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯২, রবির ৩ লাখ ৪২ হাজার ৮২ ও টেলিটকের ১ লাখ ১২ হাজার ২২৯টি সিম। সব মিলিয়ে মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৬ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮৭টি।
এদিকে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে সারা দেশে আরও ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭ হাজার ৮৯৪ জনে। এছাড়া নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৫৭৮ জন। এ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৩ হাজার ৯৮৯ জনে।
এ অবস্থায় আসন্ন ঈদ উপলক্ষে জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে, মহামারি রোধে চলা বিধিনিষেধ আগামী ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রজ্ঞাপনে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানানো হয়েছে।
এ সময়ে ঈদ উল আযহা উপলক্ষে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে যোগ দিতে যাওয়া ঘরমুখো মানুষের অস্বাভাবিক ভিড় ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে যেতে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। ঘরমুখো উপচে পড়া মানুষের ভিড়ে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যাচ্ছে না। ফলে দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঈদে বরাবরের মতই গাদাগাদি করে নিজ গ্রামে যাওয়ার চিত্র বাংলাদেশের জন্য বেশ স্বাভাবিক হলেও করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবের সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত এই ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এক হিসেবে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কপথ ও রেলপথে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে যান। বাংলাদেশে যা বছরের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চলাচল।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসেব অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যার হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা মহানগরী। যে মুহূর্তে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, সে সময়ে করোনাভাইরাস উপদ্রুত এই শহর থেকে একসঙ্গে এতো মানুষ দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা আশঙ্কা করছেন, স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে মানুষ যেভাবে গাদাগাদি করে ঢাকা ছাড়ছে, এরপর সারা দেশে করোনাভাইরাসের বিস্ফোরণ ঘটবে।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রবিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ঈদযাত্রা ‘অন্তিম যাত্রা’ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘ভারত তৃতীয় তরঙ্গের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমরা সজাগ না থাকলে আগামীতে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।‘
ঈদের এই মৌসুমে করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে গণ-পরিবহনে চলাচলের ক্ষেত্রে কি ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, বাড়ির বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সে ব্যাপারে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করে আরও জোরালো প্রচারণা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইতোমধ্যে প্রতিটি বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশনে জীবাণু নাশক ছিটিয়ে ভাইরাসমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ সচেতন না হলে এই উদ্যোগ কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে থেকেই যাচ্ছে সংশয়।